জীবনের গল্প এতো ছোট নয়:

জীবনের গল্প এতো ছোট নয়

জীবনের গল্প এতো ছোট নয়

জীবনের গল্প এতো ছোট নয় একদিনে ফুরিয়ে যাবে। হাসতে হবে,কাঁদতে হবে এর মাঝেই বাঁচতে হবে । আমি sscদেই 2000সনে।আর ঐ সময় থেকেই টুকিটাকি ব্যাবসা করি।আমার চিন্তা চেতনায় সবসময় কাজ করেছে চাকরি করবো না চাকরি দিবো।তার পর অটোমোবাইল ডিপ্লোমা পড়া কালিন 21বছর বয়সে বিয়ে করে ফেলি।সময় টা ভালো ই যাচ্ছিল। ছোট থেকেই মানুষদের কোনও কষ্ট দেখলে আমার ভাল লাকতো না।সাধ্য মতো চেষ্টা করতাম মানুষদের উপকার করার।এ সময় জুটের এবং পুকুরে মাছের খামার করতাম।মাছের খামারে আমার তেমন লাভ হতো না কারন বেশির ভাগ মাছ যাদের কিনে খাওয়ার মতো তৌফিক নাই তাদের দিতাম। 2004সালের জানুয়ারি মাসের 5তারিখে আমি একটা কার এক্সসিডেন্ট করি যা দেশের জাতীয় পত্রিকাতে ছবি সহ উঠে।অনেক পত্রিকায় উঠে আমি নিহত।তবে আল্লাহর রহমতে এবং অসংখ্য মানুষের দোয়াতে এক্সসিডেন্টের স্থানে আসে সেনাবাহিনীর একটা টিম (তারা বাৎসরিক টেনিংএর জন্য কুমিল্লা যাচ্ছিলেন। তারা গাড়ি কেটে আমাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিত্সা করে হাসপালে নেওয়াতে বেচে যাই। একসিডেন্ট হয়ে 6মাসের মতো হাসপাতালে থাকাতে আমার জুটের ব্যাবসা অন্যরা দখল করে নেয় মাছের খামারের মাছ চুরি হয়ে যায়।আমি কি করবো ভেবেই পাচ্ছি না আমার কাছে কোনও টাকা নাই।এর মধ্যে আমার আব্বা তার বাড়ি থেকে বউ বাচ্চা সহ বের করে দেয় তার কথা মতো না চলার জন্য।কি যে কষ্টের দিন গুলো ছিলো আল্লাহ্ ছারা কেউ বুঝবে না। কারো কাছে হাত পেতে চলার অভ্যাস আমার কখনো ছিল না।যার দেওয়ার স্বভাব সে কিভাবে অন্য দের কছে সাহায্যে চাইবে।না খেয়েও কেটেছে কোনও কোনও দিন।তারপর আমার মা হেল্প করলেন সৌদিআরব যাওয়ার জন্য মার জিনিস বিক্রি করে। চলে গেলাম সৌদিআরব।সৌদিআরব কয়েক মাস চাকরি করলাম টাইম মাফিক কিছুই ভাল লাগলো না।তারপর ব্যাবসা ভালোই চলছিল।আব্বা আমার বউ ছেলেকে বাড়ি নিয়ে এলো।বিদেশ করার দুই বৎসরের মাথায় আব্বা হঠাত্ স্টক করে মারা গেলেন।দেশে আসতে চাইলাম সময় মতো আসতে পারলাম না। মনে হল কিসের বিদেশ কিসের টাকা পয়সা থাকবো না বিদেশ থেকে চলে আসলাম একেবারে। অবস্থা ভাল হওয়া তে আবার কিছু গরিব মানুষের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলাম।কিন্তু 2012তে আবার 2004মতো অবস্থা হতে লাগলো।(বিদেশ থেকে এসে ট্রাক কিনছিলাম)আমি গাড়ির ব্যাবসা টা এ ভাল বুঝতাম।একটা গাড়ি একসিডেন্ট করে ড্রাইভার পাঠি সহ 3জন মারা যায়।ঐ সময় আরেকটি গাড়ি চট্টগ্রাম আগুনে পুরে যায়।কিস্তি ঠিক মতো না দেওয়ার জন্য কম্পানি করলো মামলা সব মিলিয়ে এমন অবস্থা আমার যখন লাইফ সাজানোর সময় কমরটা ভেংগে গেল।আমার অ কিছু ভূল ছিল ।তারপর গাড়ির ব্যাবসা টা টুটাল বন্ধ করে দেই এতে আমার বিরাট ধরনের লস হয়।যাদের সাহায্যে করতাম তাদের সাহায্যে করতে পারছিলাম না।তবে আমার জন্য আমার এক বিন্দু খারাপ লাগেনি।আমার খারাপ লাগতো অসহায় মানুষ গুলো কে সাহায্যে না করতে পারার করনে।আমি বার বার পরে গিয়েছি আবার উঠে দারিয়েছি।কোনও দিন আল্লাহ্ ছারা কারো কাছে হাত পাতিনি।সব প্রতিকুলতা পাড় হয়ে এখন আবার ভাল আছি 2018সনে কার ওয়াসিং সার্ভিসিং সেন্টার করি সেই ইনকাম থেকে আস্তে আস্তে একটা কমিউনিটি সেন্টার করি।এখন আমার 60/70হাজার ইনকাম হয় মাসে।4জনকে পারমানেন্ট চাকরি দিয়েছি 10/15জন পাটটাইম চাকরি করে।কিন্তু আমি একা ভাল থাকলে চলবে না আরো মানুষদের ভাল রাখতে হবে তাই আমার সামনের বিজনেস প্ল্যান ammajanbd.com(ই-কমার্স সাইট) এটা পরিকল্পনা এবং সাহস দিয়েছে নিজের বলার মতো গল্পে জন্য এবং শ্রদ্ধেয় ইকবাল বাহার জাহিদ স্যারের জন্য । আর এখানে আমার গল্প টা শেয়ার করার উদ্দেশ্যে- নিজের বলার মতো গল্পে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি।অনেক বড় লেখা হয়ে গেছে তাই সংক্ষেপে লেখলাম। সবাই ভাল থাকবেন সবসময় ।আজকে আমার জন্মদিন তাই লেখলাম আমার কিছু গল্প।আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।সবাই কে ধন্যবাদ ।