ইকবাল বাহার স্যারের জীবনী!! :

ইকবাল বাহার স্যারের জীবনী!!

ইকবাল বাহার স্যারের জীবনী!!

ইকবাল বাহার জাহিদ বাংলাদেশের তারুণ প্রজন্মের কাছে এক পরিচিত নাম ৷ সবার কাছে তিনি "ইকবাল বাহার" নামে পরিচিত ৷ তিনি বাংলাদেশের ৬৪ জেলা সহ বিশ্বের প্রায় ৫০ টির বেশি দেশের শিক্ষিত তরুণ প্রজ্ন্মকে স্বপ্ন দেখান নিজে কিছু একটা করার ৷ স্বপ্ন দেখান উদ্যোক্তা হওয়ার ৷ স্যারের সুন্দর একটা উক্তি " BE YOUR BOSS" ৷ তিনি প্রতিটি প্রোগ্রামে বক্তব্যের শেষে সুন্দর একটি কথা দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন ৷ স্যারের গুরুত্বপূর্ণ এই কথাটি সবার মনকে নাড়া দেয় ৷ সবাইকে আরেকবার জেগে উঠার অনুপ্রেরণা যোগায় ৷ ওনার সুন্দর কথাটি হল স্বপ্ন দেখুন, সাহস করুন,শুরু করুন,লেগে থাকুন, সাফলতা আসবেই। ইকবাল বাহার জাহিদ স্যারের গ্রামের বাড়ি ফেনী ৷ **পড়াশুনা : গ্রামের স্কুলেই পড়েলেখা শুরু করেন। বড় চাচার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতেন এবং ছোটবেলা থেকেই ওনার বড় চাচা ওনার ইংলিশের ব্যাপারে যত্নশীল ছিলেন। এসএসসি পরীক্ষার পর ঢাকায় এসে তিতুমির কলেজে ভর্তি হন। তবে বিভিন্ন টানাপোড়েনের কারণে এইচএসসি পরীক্ষাতে পাস করতে ব্যর্থ হন। এরপর চারদিক থেকে আত্মীয়স্বজন, পাড়াপড়শিরা ওনাকে নিয়ে মজা করে। একটা সময় ওনি কিছুটা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন । বাবার স্বপ্ন ছিল ইঞ্জিনিয়ার বানানোর। কিন্তু এইচএসসিতে ফলাফল এতটাই খারাপ ছিল যে কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি পরীক্ষাই দেয়ার সুযোগ পাননি। বিকম পড়তে আবার তিতুমির কলেজে এসে ভর্তি হন। বিকম পড়ার পাশাপাশি টিউশন শুরু করেন। টিউশনির অল্প অল্প করে জমানো টাকাই ছিল ওনার জীবনের ব্যবসার প্রথম মূলধন। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর মামার পরামর্শে সিএ পড়তে যান। সিএ পড়ার পাশাপাশি একটি ফার্মে চাকরিতে জয়েন করেন। অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে নিযুক্ত হন। প্রথম জীবনের এ ব্যর্থতাগুলোকেই ওনি ক্যরিয়ারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করেন। **স্যারের কর্মজীবন : ইকবাল বাহার কর্মজীবন শুরু করেন গ্রামীণ সাইবার নেট লিমিটেডে। সেখানে অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার এবং কোম্পানি সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই চাকরির ফলে ইন্টারনেট এবং আইসিটি তথা ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনোলজি বিষয়ের জ্ঞানটা ভালো করে রপ্ত করেন। এখান থেকেই আইসিটির প্রতি একটা ভালোবাসা তৈরি হয়। পরে নিজেই তথ্য-প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অপটিমাক্স কমিউনিকেশন লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন। অ্যাসিস্টেন্ট জেনারেল ম্যানেজার হিসাবে কাজ করেছেন গ্রামীণ শক্তিতেও। গ্রামীণ শক্তির উদ্যোক্তাকে উৎসাহিত করেছেন তিনি। মাস্টার্স করার পর সিএ ও এমবিএ করেন। এরপর পেশা হিসেবে যুক্ত ছিলেন মার্কেটিংয়ে। আর এখন ব্যস্ত নিজের প্রতিষ্ঠানে। প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সংবাদ উপস্থাপনায়ও নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। কাজের প্রয়োজনে গেছেন যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, দুবাইসহ বেশ কয়েকটি দেশে ৷ বর্তমানে তিনি আলাদিন ডটকমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। এ ছাড়া তিনি অপ্টিম্যাক্স কমিউনিকেশন লিমিটেডের ডিরেক্টর এবং সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংবাদ পাঠক এবং উদ্যোক্তাবিষয়ক অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বৈশাখী টেলিভিশন এবং এশিয়ান টেলিভিশনে। এর আগে তিনি সিঙ্গার বাংলাদেশের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।আজ থেকে ১৫ বছর আগে যখন মানুষ ক্যারিয়ার কিংবা খণ্ডকালীন জব নিয়ে অতটা সচেতন ছিল না তেমন সময়ে ইকবাল বাহার ছাত্র অবস্থায় চাকরিতে জয়েন করেন। সময়ের বিবর্তনে নানাবিধ প্রতিকূল অবস্থা মোকাবেলা করে আজকের অবস্থায় পৌঁছেছেন। ইকবাল বাহার প্রতিষ্ঠিত "আপটিমাক্স" মূলত ন্যাশনাল ওয়াইড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে সংশ্লিষ্ট সব সেবা নিয়েই কাজ করছে ৷ তবে অপটিমাক্সের যাত্রা কিন্তু অতটা শুভ ছিল না। ১৮ মাসের মাথায় কোম্পানি বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছিল। তাই ওনি নিজেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে ও অস্বাভাবিক পরিশ্রম করে হাঁটি-হাঁটি পা-পা করে আজকের অবস্থানে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন। মাঝখানে কিছুদিন সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেডে জব করেছেন মহাব্যবস্থাপক হিসেবে। উদ্দেশ্য ছিল বহুজাতিক কোম্পানিতে জবের স্বাদ নেয়া ও কর্পোরেট জগতের কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করা। এটা ছিল অপটিমাক্সের শুরুর দিকে। তখন সিঙ্গার কোম্পানিতে জব এবং অপটিমাক্সে একসঙ্গে কাজ করতেন। প্রতিদিন গড়ে ১৫ ঘণ্টা কাজ করতেন। সিঙ্গারের অভিজ্ঞতা অপটিমাক্সের উন্নতির ক্ষেত্রে অনেক বেশি সাহায্য করেছে। ওনার ভাষায় " আজকের অপটিমাক্স-ই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেডে যোগ দেয়ার ৬ মাসের মাথায় এবং অপটিমাক্সের শুরুর দিকে মারাত্মক সমস্যায় পড়েন। এসময় ওনার প্রিয় বাবা মারা গেলেন। চারিদিকে যেন শুধু অন্ধকার দেখছিলেন । তারপর থেকে ওনার মা ওনার কাছে থাকতেন। সিএ করার পরপরই বিয়ে করেন ৷ ওনি বলেন "বাবা-মায়ের দোয়া আমার জীবনের সফলতার চাবিকাঠি। আমার স্ত্রী চামেলি আমার জীবনে না এলে এবং ওর সহযোগিতা না পেলে আমার জীবনে অনেক কিছুই হতো না। সুতরাং আমি যা-ই পেয়েছি, সব মিলিয়ে আমি হ্যাপি"। উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনের কারন ওনার নিজের ভাষায় শুনুন- "গ্রামীণ সাইবার নেট লিমিটেডে অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার হিসেবে কাজ সময় আমি হঠাৎ আবিষ্কার করলাম হিসাববিজ্ঞান বিভাগে কাজ করতে আমার আসলে ভালো লাগে না। আমি সবগুলো বিভাগে কাজ করতে চাই। আমি পণ্য প্রস্তুত, বিক্রয়, বিপণন এবং সেবাদান বিভাগেও কাজ করতে ইচ্ছুক। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট কোম্পানিতে বিভাগীয় পর্যায়ে চাকরিরত অবস্থায় অন্য বিভাগগুলোয় কাজ করার সুযোগ নেই বললেই চলে। তাই ভেবে দেখলাম সব বিভাগে কাজ করতে হলে অন্যের কোম্পানিতে কাজ করা যাবে না, নিজেকে একটা কোম্পানি তৈরি করে নিতে হবে। এ ছাড়া আমার ৯টা থেকে ৫টা অফিস করতে ও ভালো লাগছিল না। অফিস শেষে প্রচুর অবসর। কিন্তু করার মতো তেমন কোনো কাজ নেই। তখন চিন্তা করলাম আমি আসলে কোন কাজটি ভালো পারি আর কোন কাজটি করতে ভালো লাগে। এক সময় আমি আবিষ্কার করলাম প্রযুক্তির দিকেই আমার প্রধান ঝোঁক। তাই কয়েক বন্ধু মিলে একটি ব্যবসা শুরু করি। কিন্তু চাকরি ছেড়ে দিয়ে কেউই কোম্পানির হাল ধরতে পারছিলাম না। এ ছাড়া শুরুতে ফান্ডিংও পাচ্ছিলাম না। আস্তে আস্তে ২ বছর চলার পর কোম্পানিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়, তখন আমিই চাকরি ছেড়ে দিয়ে পুরোদমে কোম্পানির হাল ধরার মতো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিই। যদিও ততদিনে কোম্পানির অনেক শেয়ারহোল্ডাররা ত্যাগ করে। তবে কোম্পানির হাল ধরার পর আমার আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। সবমিলিয়ে তিনি এখন অনেক সুখী। মোঃ আসাদুজ্জামান নিজের বলার মত একটা গল্প প্লাটফর্ম। ষষ্ঠ ব্যাচ, সাতক্ষীরা। কান্ট্রি এম্বাসেডর, মালেয়শিয়া। মোবাইল :+৬০১১৩৩৮১৯৭৫৯