See More Post

দুঃখে আমার জীবন ভরা সুখ যে খানিক অল্প

আসসালামু আলাইকুম।

প্রিয় পরিবারের প্রিয় মানুষ গুলো কেমন আছেন সবাই,

আশাকরি সবাই ভাল আছেন, আমি ও আলহামদুলিল্লাহ ভাল আছি সবার দোয়ায়,

কোত্থেকে যে শুরু করি জীবন নামের গল্প,

দুঃখে আমার জীবন ভরা সুখ যে খানিক অল্প,

আমি আলী রমজান, সিলেট জেলার বিশ্বনাথ থানার ধলিপাটলি গ্ৰামে আমার জন্ম, পাঁচ ভাই এক বোন আর মা বাবা নিয়ে আমাদের সুখের পরিবার, বোন আমাদের সবার বড়, আমি হলাম পরিবারের পাঁচ নাম্বার সন্তান, 

আমাদের পরিবারে সুখের কোনো অভাব ছিল না,

ছোট্ট বেলা কিভাবে কেটেছে বেশী মনে নেই,

কারণ সুখের কথা গুলো মানুষ মনে রাখে না,

কষ্ট গুলো খুব যত্ন করে মনে রাখে, দুঃখ গুলো মনে আছে,

আপনাদের সাথে শেয়ার করার চেষ্টা করব সেগুলো,

মা কে হারানো ও পড়ালেখার ইতি,

২০০২ সালে মা আমাদের ছয় ভাই বোনকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন, আমি তখন ছোট ছিলাম মাকে হারিয়েছি ডিপ্রেশনে চলে গেলাম, কোনো কিছুই যেন ভাল লাগে না, সব যেন অন্ধকার মনে হয়, বাবা আছে, ভাই আছে, বোন আছে, তবুও যেন আমার পৃথিবী অন্ধকার, অনেক কষ্টে বাবা ও ভাই বোনের ভালবাসায় এই কষ্ট থেকে বের হতে পারলাম, কিন্তু পড়াশোনাটা করা হল না,

সবাই আমাকে ডিপ্রেশন থেকে বের করার জন্য পচন্ড ভালবাসতো, আমি পড়তে না চাইলে কেউ জোর করতো না পড়ার জন্য, তারা সবাই ভয়ে থাকত জোর করলে আবার যদি  ডিপ্রেশনে চলে যায়, তাই আমার পড়াশোনা ধেউ কলস দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি পাস করার পর শেষ করে ফেললাম, মনে করলাম আমাকে দিয়ে আর পড়াশোনা হবেনা।

বাস্তবিক অভিজ্ঞতা পড়াশোনা।

পড়াশোনা ছেরে দেওয়ার পড়ে মনে হতে লাগল কেমন করে  চলব? কিছুতো করতে হবে, এখন না হয় সবাই আছে, একসময় সবাই ব্যাস্ত হয়ে পরবে, তাই অনেক চিন্তা ভাবনা করে একটা ইলেকট্রিক কাজে যুক্ত হয়ে গেলাম, প্রথম প্রথম কষ্ট হলে ও দুই বছর লেগে থেকে একজন দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান হয়ে উঠলাম, সবই চলছে ঠিক টাক, তবুও যেন মনে হতে লাগল একটা কাজ করে জীবন শেষ করা সম্ভব না, কোনো সময় এই কাজটা আমার ভাল না ও লাগতে পারে তখন কি করব?

নিজেকে এই প্রশ্ন করার পর মনে হল আরো কিছু শিখা দরকার জানা দরকার,

তাই আবার নতুন করে ফ্রিজ ও এয়ার কন্ডিশনার ইঞ্জিনিয়ারিং কাজে যুক্ত হই, এবং ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই কাজ করি, এই কাজ গুলোতে খুবই দক্ষ হয়ে উঠি,

বাবাকে হারানো ও প্রবাসে পারি।

কাজ করছি ভালোই চলছে তবু কেন যেন মনে হয় দেশে আমার কাজের চাহিদা কম, তাই চিন্তা করলাম প্রবাসে যাব,

২০০৮ সালে লন্ডনে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য এপ্লাই করলাম। সব কিছুই ঠিকঠাক হল, 

আমি যেন সুখের স্বর্গে ভাসছি, আমি প্রবাসে আসার ঠিক একমাস আগে আমার জীবনে যেন অন্ধকার নেমে আসল,

যে বাবা, মা চলে যাওয়ার পড়ে মায়ের অভাব বুঝতে দেননি।

সেই বাবা আমার জীবনের সুখের দিন দেখার আগেই চলে গেলেন আমাদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে,,

সব কিছু আছে কিন্তু আমার যেন কিছুই নেই,

      এক পৃথিবী আকাশ আমার অন্ধকারে ঘেরা,

      ভাই আছে বোন আছে সব কিছু থেকে ও যেন

      শূন্য আমার পৃথিবী মা বাবা ছাড়া।

এই দেশে যেন কিছুই ভাল লাগছে না, যে দিকে তাকাই যেন মনে হয়  এখানে বাবা ছিলেন এখন নেই, তাই বাবা চলে যাওয়ার ৪০ দিন পরে ২০১০ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে  ইংল্যান্ডে পাড়ি জমাই,

 প্রবাস জীবন ও জীবন যুদ্ধ।

আমি যখন লন্ডনে আসি তখন জীবনের মানে বুঝতে পারি, দেশে মা কে হারানোর পর বাবা ভাই বোনে সব কিছুতেই সাহায্য করত, কিন্তু এখানে কেউ সাহায্য করার নেই,

যদি ও আত্ত্বীয় স্বজন অনেকেই ছিল কিন্তু কাউকেই আত্বীয় স্বজন হিসেবে পায়নি নিজের যায়গা নিজে তৈরি করতে হয়েছে, আত্বীয় স্বজন যেন সবাই অপরিচিত মানুষ থেকে ও বেশি অপরিচিত ছিল,

এখানে না খেয়ে থাকলে ও কেউ জিজ্ঞেস করার নেই খেয়েছি কি না,

এখানে এসে দেশের থেকে শিখে আশা কাজ গুলো পায়নি,

নতুন এক কাজে যুক্ত হলাম ইন্ডিয়ান একটা রেস্টুরেন্টে সেফের সহকারী হিসেবে, এই কাজ যারা করে তারা বুঝতে পারবে কতটা কষ্ট হয়, যাক কষ্ট করে এখানে লেগে থেকে আমি ও সেফ হয়ে গেলাম।

তারপর চেষ্টা করি লিগেল হওয়ার জন্য, চার বছর থাকার পর ও পেপার পাচ্ছি না, অনেক প্রতিকূলতা মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে,

চিন্তা করতে লাগলাম কি করব? এখানে টাকা ইনকাম করতে পারব কিন্তু  এখানে ফিউচারে থাকতে পারব না,  তাই লন্ডন থেকে ফ্রান্স মুভ করার সিদ্ধান্ত নিলাম।

লন্ডন থেকে ফ্রান্সে যাওয়ার আগে আমি আরো অনেক গুলো দেশ ভিজিট করার চিন্তা করলাম,

চিন্তা করলাম যে দেশে আমার ভাল লাগবে সে দেশে আমি একেবারে থাকার প্লেন করব,

তাই ভিজিট করলাম ফ্রান্স, ইতালি, পর্তুগাল, স্পেন সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, এসব দেশ ভিজিট করে মনে হল আমার জন্য ফ্রান্স ই সুইটেবল, তাই ফ্রান্সে ই স্টে করলাম,

আলহামদুলিল্লাহ এখন আমি ভাল আছি, এখানে সাত বছর পরে আমি লিগেল হলাম, আমি এখন ইচ্ছে হলে এখানে আজীবন থাকতে পারব, ইচ্ছে হলে দেশে ও যেতে পারব।

গ্ৰুপে যুক্ত হওয়া।

২০১৮ সালের শেষের দিকে এই গ্ৰুপে কিভাবে যেন ফোলোয়ার হয়ে যাই, এই নিজের বলার মতো একটা গল্প ফাউন্ডেশন সহ আরো অনেক গুলো গ্ৰুপে আমি যুক্ত ছিলাম।

নতুন করে এই গ্ৰুপে ফলোয়ার হওয়ার পর ভাবলাম আট দশটা গ্ৰুপের মতোই গ্ৰুপ হবে,

কিন্তু নিজের বলার মতো একটা গল্প গ্ৰুপের পোস্ট গুলো একেবারে আলেদা, তাই এই গ্ৰুপটাকে আরো একটু বেশি ফলো করতে লাগলাম, এই অবজারভেশন করতে গিয়ে গ্ৰুপের প্রেমে পড়ে গেলাম, প্রায় দুই বছর এই গ্ৰুপ আসলেই ভাল কি না জানতে কাটিয়ে দিলাম, এবং আমি আমার উত্তর ও পেয়ে গেলাম, আসলেই এটা ইউনিক কিছু যা অন্য কোন গ্ৰুপের সাথে তোলনা করার মতো না, 

এখানে আর যায় হউক ভাল মানুষের চর্চা হয় এই বিষয়টি আমার মন ছুঁয়ে যায়,

এবং এই মন ছুঁয়ে যাওয়া থেকে ২০২১ এসে ১৫তম ব্যাচে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে এই পরিবারের একজন সদস্য হয়ে গেলাম।

গ্ৰুপ থেকে পাওয়া।

আমরা মানুষরা না পাওয়া গুলো হিসাব করি বেশি,

পাওয়া গুলোর কখনো হিসেব করিনা, 

তবে আমি একটু ব্যতিক্রম চিন্তা করি, আর এই ব্যতিক্রম চিন্তা আমার মাঝে তৈরি করে দিয়েছেন আমাদের সবার প্রিয় শিক্ষক মেন্টর জনাব ইকবাল বাহার জাহিদ স্যার। সেজন্য প্রিয় স্যারের প্রতি চির কৃতজ্ঞ।

আগে আমি ও না পাওয়া গুলো হিসাব করতাম,

এখন পাওয়া গুলো হিসাব করি, এই গ্ৰুপ থেকে অনেক কিছু পেয়েছি, পেয়েছি ভাল মানুষের পরিবার, পেয়েছি বিলাশ একটা নেটওয়ার্ক, পেয়েছি ভাল ও সুন্দর মনের ভাই বোন,

এখন যে কোন কিছু যেন হাতের মুঠোয় মনে হয়, চাইলেই যে কোন কিছুর ইনফরমেশন সহজেই পাওয়া যায়, এই গ্ৰুপের পাওয়া গুলো লিখে শেষ করা যাবে না, তাই এখানেই সংক্ষিপ্ত করলাম।

 ভবিষ্যত স্বপ্ন।

স্বপ্ন আমার দেখতে ইচ্ছে হত না, তবে এই গ্ৰুপে যুক্ত হয়ে ইকবাল বাহার জাহিদ স্যার আমাকে স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছেন, প্রিয় স্যার একটা সেশনে বলেছেন আমাদের ইনকামের টাকা শুধু আমার জন্য না, আমার পরিবার প্রতিবেশী ও দেশের মানুষের কিছু হক আছে,

তাই কখনো ইচ্ছে ছিল না উদ্দ্যোগতা হওয়ার,

দেশে কিছু করার দেশের মানুষের জন্য কিছু করার,

যদি ও আমি দেশে মুভ করব না, কিন্তু স্যার দেশের জন্য যা কিছু করছে স্যারের সাথে আমি ও দেশের মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ আমিও সামিল হব দেশ প্রেমিকদের সাথে, 

আমি প্রিয় প্লাটফর্মে যুক্ত হতে পেরে নিজেকে ধন‍্য ও গর্বিত মনে করি, আমি গর্ববোধ করি এই প্লাটফর্মের এক জন আজীবন গর্বিত সদস্য হতে পেরে।

আগে ভাবতাম প্রবাস থেকে কিছু করা যাবে না । এই প্লাটফর্মে যুক্ত হয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি আমি প্রবাস থেকে দেশের মানুষের জন্য কিছু করব ইনশাল্লাহ। আমার এখন মনে হচ্ছে কেন আরও আগে ভালোবাসার প্লাটফর্মে যুক্ত হলাম না। আগে যুক্ত হলে আমি জীবনে আরও উন্নতি করতে পারতাম। 

প্রিয় স‍্যার কে জানাই লক্ষ কোটি সালাম ও সেলুট আমাদের কে এতো সুন্দর একটা প্লাটফর্ম উপহার দেয়ার জন্য। স‍্যারের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করি আল্লাহ পাকের কাছে। আল্লাহ্ স‍্যার কে দীর্ঘাজিবি করুন । হাজার বছর বাছিয়ে রাখুন আমাদের মাঝে আমীন।

স‍্যার আমার জন্য দোয়া করবেন যেন আমি এই প্লাটফর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে মানুষের মতো ভাল মানুষ হতে পারি। এবং এক জন  সফল উদ্যোগতা হতে পারি।

আমি এখন  থেকে মানবিক কজ করছি আশা করি সব সময় করব। আমি যেন আমার চার পাশের মানুষের সেবা করতে পারি। প্রিয় প্লাটফর্মে লেগে আছি লেগে থাকব এ দেহে আছে যতদিন প্রাণ।

যারা আমার গল্পটি মুল্যবান সময় ব্যায় করে পড়বেন,

সবার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করে আমার লিখার সমাপ্তি করছি।

সবার দোয়া ও ভালবাসা প্রত্যাশী


📌"স্ট্যাটাস অব দ্যা ডে"- ৭৬৪

Date:- ২৭/০৩/২০২২ইং

আলী রমজান।                   

 ব্যাচ ১৫

রেজিষ্ট্রেশন ৬৯৯৬৮

নিজ জেলা সিলেট 

বর্তমান অবস্থান প্যারিস ফ্রান্স।

ফরিদপুর জেলা টিম কর্তৃক আয়োজিত বৃক্ষরোপন কর্মসূচি -২০২৪

ইনশাআল্লাহ ফরিদপুর জেলার বাকি ৮টি উপজেলায় এই কর্মসূচি চলমান থাকবে। অনেক বেশি ধন্যবাদ Iqbal Bahar Zahid স্যার কে ॥

পর্দাশীল ঘরোয়া নারী- সফল উদ্যোক্তা

আমি রান্নাটা ভালো পারি, রান্নাটা নিয়েই পেজ খুলি অনলাইনে কাজ করি। প্রথম অর্ডার আসছিল পিৎজা ডেলিভারির। আলহামদুলিল্লাহ তারপর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ।