See More Post

আমার লক্ষ্য একজন সফল উদ্যোক্তা ও ভালো মানুষ হওয়া

🕋 বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
     আসসালামু আলাইকুম

🎀প্রিয় ফাউন্ডেশনের আমার সকল ভাই-বোনদের সাথে আজ শেয়ার করব আমার

                     💕 জীবনের গল্প 💕
                    ---------------------

🕠 অল্প অল্প করে জীবনের গল্প থরে থরে সাজানো তো থাকবেই....... কখনো সূর্যদিন কখনো চন্দ্ররাত কখনো গ্রহণ তো লাগতেই পারে তবু কি থেমে থাকে আমাদের জীবনযাত্রা।

🙏আমার জীবনের গল্পটা  পড়ার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ রইলো 🙏
       

💕জীবনের গল্প সকলেরই থাকে কারো গল্প থেকে যায় ডায়েরির পাতায় আর কারো  গল্প রচিত হয় উপন্যাসের পাতায় আর আমি লিখতে এসেছি আমার জীবনের গল্প আমার প্রিয় ফাউন্ডেশনের ভালোবাসার পাতায়।জীবন অম্লান হয়ে থাকবে স্মৃতির পাতায় আমার সকল প্রিয় ভাইবোনদের মনের মাঝে। 

🤲শুরুতেই আমি শুকরিয়া আদায় করছি মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে যিনি আমাকে এবং আমার পরিবারকে এখনো সহিসালামতে সুস্থ রেখেছেন  ভালো রেখেছেন  এবং সকল বিপদ আপদ থেকে রক্ষা করেছেন আলহামদুলিল্লাহ।

💕শুরু করার আগে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে  স্মরণ করছি আমার গর্ভধারিণী মমতাময়ী মা ও আমার মাথার  উপর ছায়ার মত  বটবৃক্ষ  বাবাকে। তাদের নিঃস্বার্থ মায়া মমতা ও ত্যাগের ঋণ কখনো শোধ করা সম্ভব নয়
মহান আল্লাহতালার কাছে প্রার্থনা করি আমার আব্বু ও আম্মুকে  সুস্থ রেখ ভালো রেখো।

💕হৃদয়ের আকুলতা থেকে কৃতজ্ঞতার সাথে শ্রদ্ধাযাপন  করছি প্রিয় শিক্ষক প্রিয় মেন্টর আব্বু ও আম্মুর  পরে আমার শ্রেষ্ঠ অভিভাবক ইকবাল বাহার জাহিদ স্যারের প্রতি। যার নিঃস্বার্থ অক্লান্ত পরিশ্রমে আমরা পেয়েছি এত সুন্দর একটি প্ল্যাটফর্ম নিজের বলার মত একটা গল্প  নিজেকে তৈরি করার স্বপ্নীল ভুবন।

🌺জন্ম পরিচয় :-

💕আমি চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানার অন্তর্গত ফতেয়াবাদ ইউনিয়নের নাসরিন আক্তার। 1️⃣9️⃣9️⃣8️⃣সালের 1️⃣3️⃣মার্চ আমার মায়ের কোল জুড়ে পৃথিবীর আলো দেখি।মায়ের মুখে শুনেছি আমার যখন জন্ম হয়েছে তখন আমার পরে আর   কোন ভাই-বোন আমাদের বংশে জন্ম গ্রহন করে নাই তাই সকলের আদরের ছিলাম আমার পরিবার এবং পুরো বংশের মধ্যে সকলের ছোট ছিলাম তাই আদরের সীমা ছিল না আমার জন্ম হওয়াতে।

💕আমরা 2️⃣বোন 1️⃣ ভাই

👩‍👩‍👧বোন সকলের বড় তারপর বড় ভাই 
         👰আমি সকলের ছোট 👰

🌺শৈশব জীবন :-

💕ছোটবেলা থেকেই আমি অনেক চটপটে চঞ্চল প্রকৃতি ছিলাম হাসি খুশি খেলাধুলায় পুরো পরিবারটাকে মাতিয়ে রাখতাম আমার বেশিরভাগ সময় কেটেছে আমার বড় বোনের সাথে ঝগড়া হাসি কান্না খুনসুটি সবকিছু বড় বোনের সাথে আর ভাইয়ের সাথেও হত সবকিছুই অনেক মজার ছিল কারণ আমি সবার ছোট আহ্লাদ এর  শেষ ছিল না। আমার পরিবারের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো ছিল না তবুও ভালোবাসার কমতি ছিল না আমার আব্বু  চাকরি করতেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের একজন  কর্মকর্তা হিসেবে,তখন বেতন অনেক অল্প ছিল পরিবারের খরচ আমাদের ভাই-বোনদের লেখাপড়ার খরচ সবকিছু মিলিয়ে আব্বুকে  হিমশিম খেতে হতো তখন সংসারে হাল ধরেন  আম্মু ।আমি দেখেছি আমার আম্মুর  সংগ্রামী জীবন দেখেছি মা কত কষ্ট করেছেন আমাদের জন্য। আব্বু ও আম্মুকে  সারাদিন কাছে পেতাম না।বড় আপুই সারাদিন আমাদের দুই ভাই বোনকে দেখাশোনা খাওয়া-দাওয়া সব কিছু আমার বড় আপুই করত বড় আপুর স্নেহের আঁচলে আমার পুরোটা শৈশব কেটে গেছে । আম্মু আব্বুর জন্য অনেকটাই কষ্ট হতো তবুও দিন কেটে যাচ্ছিল ভাবতাম আমি  যদি অনেক বড় হয়ে যেতে পারতাম তাহলে চাকরি করে মা বাবার সকল দুঃখ কষ্ট মুছে দিতে পারতাম।

✍️পড়াশোনা আমার শিক্ষা জীবনের শুভ সূচনা ✍️

💕ছোটবেলা থেকেই আমি পড়াশোনা অনেক ভালো ছিলাম। ফ্যামিলিতে ও স্কুলে শিক্ষকদের সকলের মধ্যমণি ছিলাম এবং স্কুলের সকল খেলাধুলায় প্রত্যেকটা ইভেন্টে অংশগ্রহণ করতাম আল্লাহর রহমতে বিজয়ের মালা আমি ছিনিয়ে নিয়ে  আসতাম। প্রতিবছর স্কুলের বার্ষিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে 1️⃣0️⃣0️⃣ মিটার ও 2️⃣0️⃣0️⃣ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান এ জায়গা দখল করে নিতাম, সুই সুতা ও বিস্কুট দৌড় এ  জুড়ি মেলা ভার। শুরুতেই বলেছিলাম যে আমাদের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো ছিল না প্রাথমিক শিক্ষা জি,পি এ 5️⃣পেয়ে ইনশাআল্লাহ ভালোভাবেই শেষ করি খুব ভালো রেজাল্ট করে। যখন মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তি হলাম   তখন আমার কোন প্রাইভেট মাস্টার ছিল না আপু যতটুকু  পারতো সাহায্য করতো  কারণ আপু ও পড়াশোনা করত  আমি এবং আমার বোন একই মাধ্যমিক স্কুলে পড়াশোনা করতাম  আমাদের স্কুলের নাম ছিল কাপাসগুলা সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় যেহেতু এটি সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত   স্কুল ছিল প্রতিমাসে মাসিক বেতন তো দিতে হতোই কিন্তু এখানেই আমার সমস্যা আমার মা-বাবার পক্ষে সম্ভব ছিল না 3️⃣ ভাই বোনের মাসিক বেতন টিউটরের বেতন সবকিছু একসাথে চালানো। অনেক কষ্টে স্কুল কমিটির কাছে আবেদন করি আমাকে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য যেহেতু   দুই বোন ছিলাম সেই সূত্রে আমার পারিবারিক সমস্যা বিবেচনা করে এবং আমার মেধা বিবেচনা করে স্কুল কমিটি আমাকে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দান করে এভাবেই চলতে থাকে আমার পড়াশোনা ৮ম শ্রেণীতে ট্যালেন্ট পুলে বৃত্তি পাই।  আনন্দের সাথে কেটেছে আমার স্কুল জীবন শিক্ষক ও সহপাঠীদের ভালোবাসায়
2️⃣0️⃣1️⃣2️⃣  সালে  এস,এস, সি পরীক্ষা  দিলাম যতই কষ্ট হোক আমার বাবা-মা কোনদিন আমাদেরকে কষ্ট পেতে দেয়নি লেখাপড়া থামিয়ে দেয়নি এরপর আমি ভর্তি হলাম চট্টগ্রাম এম এস ওমর গনি  কলেজে। ইন্টার কমপ্লিট করে চলে আসলাম ঢাকায় বিভিন্ন পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির জন্য এপ্লাই করলাম এক সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমার নাম সিলেক্ট হয় এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমি অনার্স কমপ্লিট করি এবং ২০২৩ সালে মাস্টার্স কমপ্লিট করি  ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে।

💕ঘুরে দাঁড়ালো আমার পরিবার :-

💕ততদিনে আমার পরিবার ঘুরে দাঁড়ালো অনেকটা সময় অনেক দুঃখ কষ্টের পরে আমার বাবা চট্টগ্রাম  শহরে এক টুকরো জমি কেনে বাড়িসহ এরপরে আমাদের আর কোন কষ্ট রইল না। আব্বু আম্মুর সহযোগিতায়  ভাইয়া   প্রতিষ্ঠিত বিশিষ্ট   ব্যবসায়ী হিসেবে  চট্টগ্রামে বিজনেস ম্যাগনেট হিসেবে নিজেকে দাঁড় করিয়ে নিল । আব্বুর পাশাপাশি বড় ভাইয়া ও সংসারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন।  বড় আপু গ্রেজুশন কমপ্লিট করে এর পরে আপুর বিয়ে হয়ে যায় আমি হয়ে যাই একা কারণ আমার সবটা সময় ভালোলাগা খারাপ লাগা ছিল আমার বড় বোনের সাথে এখন যেন নিজেকে শূন্য মনে হচ্ছে, রাতে ঘুমোতে গেলেও ঝগড়া হতো দুই বোনের মধ্যে আজ সবটাই স্মৃতির পাতায়। অনেক মিস করি আমি আমার বড় বোনকে। জিবন  মানেই সুখ দুঃখ উত্থান পতন থাকবেই  কারো কম কারো বেশি পরিবারের মা বাবার স্বপ্ন ছিল আমাকে ডাক্তার বানাবে যাতে বিনা চিকিৎসায় কোন মানুষ কষ্ট না পায়,কিন্তু ভাগ্য মুখ ফিরিয়ে নিল আমার মা-বাবায়ের স্বপ্ন পূরণ হলো ন।

💕চলে যাচ্ছি গল্পের মূল পর্বে........

😭হঠাৎ দুর্যোগের ঘনঘটা
                          😭আকাশে কালো মেঘের ছায়া

◾😭নেমে এলো আমার জীবনে অন্ধকার হঠাৎ এক কালবৈশাখীর ঝড়ের তান্ডবে ধ্বংসলীলায়  পরিণত  হয়ে গেল আমার পুরো জীবনটা। নেমে আসে পুরো পরিবারের ওপর এক  মহাবিপদ সবাই যেন দিশে হারা হয়ে পড়ে আমাকে নিয়ে জীবন মরণের  দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আমি। এই ঘোর অমাবস্যায় কেটে গেল আমার জীবন থেকে 1️⃣ টি বছর এই 1️⃣ বছরের দীর্ঘ 6️⃣টি  মাস আমার কেটে যায় কলকাতার ব্যাঙ্গালোর শহরের the kings of milestone   হাসপাতালের বিছানায় আমার জন্য দোয়ার আয়োজন করা হয়েছিল চট্টগ্রামের ফাতেয়াবাদ ইউনিয়নের  প্রতিটি মসজিদে  ও পাড়ায় মহল্লায়। জীবন যুদ্ধে লড়াই করে সুস্থ হয়ে  ফিরে এলাম বাংলাদেশে।আর এই পুরোটা সময় আমার সাথে ছিল আমার গর্ভধারিণী মা বাবার মত ন্যায়পরায়ণ দায়িত্বশীল বড় ভাই। আব্বু  ভেঙ্গে পড়েছিলেন শারীরিক এবং মানসিকভাবে কারণ আমি আব্বুর কলিজার টুকরা ছিলাম আমি নাকি দেখতে আমার দাদীর মত হয়েছিলাম তাই সবাই আমাকে মা বলে ডাকতো আমার চাচা ফুফু সবাই।    আব্বু আমাদের সাথে ইন্ডিয়া যেতে পারেনি কারণ আব্বু ছিল খুব নরম মনের মানুষ আমার এই অবস্থা দেখে আব্বু এতটাই ভেঙ্গে পড়েছিল তাই ভাইয়া সাথে নেয়নি  হাসপাতালে সর্বক্ষণ আমার  পাশে ছিল মা ও ভাইয়া আমার সাথে সাথে তারাও অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন হাসপাতালে মা ভাইয়ার কারোরই খাওয়া ঘুম কোনটাই ঠিক ছিল না ।হয়তো আল্লাহ তায়ালা রহমত ছিল বলে আমি সুস্থ হয়ে সবার মাঝে ফিরে এলাম।আব্বু আম্মু  ভাই বোন সবাই যেন ছায়ার মত আমার পাশে ছিল একটিবারের জন্যও  আমাকে বুঝতে দিত না যে আমার জীবনে এত বড় একটা ট্রাজিটি ঘটে গেছে।হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর  সঙ্গে  লড়াই করেছি  হাসপাতালে কাটনো প্রতিটি দিন সময় মুহূর্ত আমার কাছে ছিল মৃত্যু যন্ত্রণার চেয়েও কষ্টকর । আজও সেই দিনগুলির  কথা মনে হলে হৃদয় কেঁপে ওঠে অজান্তে দুচোখে বেয়ে  অশ্রু ঝরে পড়ে।

😭জীবনে ঘটে যাওয়া আরো কিছু দুর্বিষহ ঘটনা যা নিজের স্বচক্ষে অবলোকন করেচি,,,

1️⃣মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসার পরেও আবার আক্রান্ত হই লিভার টিউমারে।সফল অস্ত্র পাচার হয় চট্টগ্রামের ন্যাশনাল হাসপাতালে।
2️⃣কোভিট 1️⃣9️⃣এর সময় আক্রান্ত হন আমার প্রাণপ্রিয় আব্বু দীর্ঘ ২২ টি দিন হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সাথে লড়াই করে ফিরেছেন।
3️⃣ভাইয়া মোটরসাইকেল এক্সিডেন্ট করে গুরুতর আহতো হন।বাংলাদেশের বড় বড় হসপিটালে ডাক্তার দেখিও ভাইয়া সুস্থ হচ্ছিলেন না অনেক বেশি ইনজুরি হয়েছিল পায়ে শেষ পর্যন্ত ভারতের কিংডম হাসপাতালে ভাইয়ার পায়ে সফল অস্ত্র পাচার হয়।

🪔সবকিছু মিলিয়ে জীবনে অনেক বাস্তবতার সম্মুখীন   হয়েছি আলহামদুলিল্লাহ এখন আল্লাহতালা অনেক ভালো রেখেছেন।

🪔ফিরে পেলাম জীবনে নতুন করে আশার আলো 🪔

💕 সবার ভালবাসায় মায়া মমতায় ও সেবা যত্নে  আমি ফিরে এলাম আমার স্বাভাবিক জীবনে পেলাম এক নতুন জীবন  ঘুরে দাঁড়ালাম সকলের ভালোবাসার শক্তি নিয়ে  নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করব বলে নিজের পায়ে দাঁড়াবো বলে নিজের একটি পরিচয় তৈরি করব বলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়ে শুরু হলো আমার চাকরি জীবন।মা বাবা ভাই বোন বাধা দিয়েছিল তোমার চাকরি করার দরকার নাই। তখন মনের মধ্যে প্রচন্ড জীদ  চেপে বসে আমি নিজের পরিচয়ে বাঁচবো নিজের একটি আইডেন্টিটি তৈরি করব। অনেক কষ্টে আমার মাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে আমি চলে এলাম ঢাকায় আমাদেরই এক আত্মীয়র বাসায় এরপর এক বান্ধবীর সহযোগিতায় গাজীপুরে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকরি নিলাম কেটে গেল অনেকটি বছর পরিবার থেকে সবাই  বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল আমার একটাই প্রতিজ্ঞা ছিল যতদিন আমি প্রতিষ্ঠিত হবো না নিজের পায়ে দাঁড়াবো না এতদিন বিয়ে নামক সম্পর্কের বন্ধনে নিজেকে জড়াবো না। এ নিয়ে মা-বাবা অনেক সময় মন খারাপ করতো বলতো আমাদের  বয়স হয়েছে আমরা কখন মরে যাই তোমার বিয়ে না দিয়ে গেলে,সুখী না দেখলে  আমরা তো মরেও শান্তি পাবো না। তখন আমি হেসে উড়িয়ে দিতাম বলতাম তোমরাই তো আমার সবচেয়ে বড় সুখ আর আমি মনে মনে সেটাই ফিল করতাম আব্বু আম্মু আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সুখ সঙ্গী। কখনো ফিল করিনি জীবনে একজন লাইফ পার্টনারের প্রয়োজন আছে,  মনের মধ্যে  জিদ প্রতিজ্ঞা নিয়ে আমি চাকরি করতে থাকি একটা সময় নিজে মনে মনে ভাবি যে শুধু কি   অন্যের অধীনে চাকরি করে আমি আমার জীবনের পরিচয় তৈরি করব?? এমন কিছু করতে হবে যাতে বাংলাদেশ কেন সারা বিশ্বের মানুষ আমাকে চিনবে জানবে।আমি কিন্তু চাকরি করা অবস্থায় অনার্স এবং মাস্টার্স কমপ্লিট করি আমার নিজের পরিশ্রমের টাকা দিয়ে আমার পড়াশোনার সমস্ত খরচ বহন করি সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে রাতে এসে রান্নাবান্না খাওয়া-দাওয়া শেষ করে পড়াশোনা করতাম এমনও দিন গেছে রাত তিনটার সময় আমি ঘুমিয়েছি কোন কোন দিন ফজরের আযানও দিয়ে দিয়েছে মাত্র ২ ঘন্টা ঘুমিয়ে আবার সকাল 6️⃣ টায় ঘুম থেকে উঠে রান্নাবান্না করে চাকরিতে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে যেতাম অফিসে 8️⃣টার সময় ঢুকতাম। ভাগ্য আমার দিকে মুখ তুলে তাকালো আমি যে টাকা বেতন পেতাম তার থেকে প্রতিমাসে কিছু টাকা আমার মায়ের কাছে পাঠাতাম আমার মা কিন্তু সেই টাকার  সবটুকু ব্যাংক একাউন্টে সঞ্চয় করে রাখেন। পরিবার থেকে পেয়েছিলাম অফুরন্ত ভালোবাসা পূর্ণ স্বাধীনতা তাই চাকরিটা আমি করতে পেরেছিলাম। চাকরি করতে  গিয়ে অনেকের অনেক কথা শুনেছি ওনেকে  ভালো বলেছে কেউ মন্দ বলেছে কারো কথায় কান  দিইনি কোন জবাব দিতাম না,  নিজের মতো করে নিজের মনের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিতাম সকল কাজে, আর আমার সেই জমানো পারিশ্রমিক দিয়ে আমার মা আমার নামে এক টুকরো জমি ক্রয় করেন। এক কথায় বলতে গেলে আমার এই জীবন যুদ্ধে আমার সকল দুঃসময়ে আমি আমার পাশে পেয়েছি... আব্বু আম্মুকে , পেয়েছি একমাত্র বড় ভাই ও বড় বোন ছাড়া আমার পাশে কেউ ছিল না। এই সুন্দর পৃথিবীতে নতুন করে নিজেকে তৈরি করতে পেরেছি একমাত্র তাদেরই অনুপ্রেরণায় সহযোগিতায় ও ভালোবাসায় তাদের অবদান ঋণ কোনদিনও শোধ করার নয়। বাবা মা এর মত আপন  নিঃস্বার্থ ভাবে ভালোবাসার মানুষ এই পৃথিবীতে দ্বিতীয় কেউ হতে পারে না আমার জীবন দিয়ে আমি  বুঝেছি জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে উপলব্ধি করেছি। আমি দেখেছি আমার কষ্টে আমার আব্বুর দুচোখ দিয়ে অশ্রু ঝরে পড়েছে আমার মা শয্যাশায়ী হয়ে গেছে তাইতো জিবনের  সঙ্গে যুদ্ধ করে বাস্তবতার মাটিতে নিজেকে নতুন রূপে আবিষ্কার করলাম। আজকের এই আমি আর ১৪ বছর আগে ধ্বংস স্তূপে পরিণত হওয়া আমি এ যেন দুটি ভিন্ন চিত্র।

💁‍♀️🪔আমার জিবনে মিরাক্কেল যদি কিচু হয়ে থাকে সে হলো আব্বু আম্মুর দোয়া।

💕 চাকরি এবং লেখাপড়া সূত্রে গাজীপুরে আমার অবস্থান গত কয়েক মাস আগে আমি আমার চাকরিটা ছেড়ে দেই ডিসিশন নেই মনে মনে আমি বিজনেস করবো এরপর আমি গাজীপুর থেকে চট্টগ্রামে আমার নিজ বাড়িতে যাই  আপু এবং আম্মুর সাথে পরামর্শ করি এবং আমার মনের ভেতরের যে স্বপ্নের জাল আমি বুনেছি  তা প্রকাশ করি আমার এই  সিদ্ধান্তে আপু এবং আম্মু খুশি হয় কারণ ওরা কোনদিনও চাইনি আমি গার্মেন্টসে চাকরি করি.... কারণ  যে আমি কোনদিন এক গ্লাস পানিও মুখে তুলে খাইনি মা বোন আদর করে খাইয়ে দিত আর সেই আমি কিভাবে গার্মেন্টসে চাকরি করবো.. যারা গার্মেন্টসে চাকরি করেছেন বা করছে তারা সকলেই জানে কতটা পরিশ্রম করতে হয় চার দেয়ালের ভিতরে সকাল থেকে রাত 1️⃣2️⃣/1️⃣4️⃣ঘন্টা এক মিনিট বসে থাকার সুযোগ ছিল না ঘন্টার কাজ ঘন্টায় বুঝিয়ে দিতে হতো, সবচেয়ে বড় কথা হলো পরিবারের সকলের আদরের চোখের মনি ছিলাম তো তাই কেউ চাইতো না কোন কষ্টের কাজ করি।অনেকদিন গেছে কাজের চাপে দুপুরে না খেয়ে কাজ শেষ করেছি নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত সময় থেকে নিজের কাজ সম্পন্ন করেছি, কিন্তু বড্ড জেদ যে মনের মধ্যে চেপে বসেছিল উদ্যোক্তা হবার স্বপ্ন। আমাকে যথেষ্ট সাপোর্ট করে পরিবারের সবাই।

🪔উদ্যোক্তা জীবনের শুভ সূচনা,,,,,,,,,

💕আর এই উদ্যোগে আমার আম্মু  ভালোবেসে আমার হাতে 2️⃣0️⃣0️⃣0️⃣0️⃣ হাজার টাকা তুলে দিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করে এবং বলে তুমি এটা দিয়ে যাত্রা শুরু করো আমার মায়ের ভালোবাসা দিয়েই  শুরু হলো আমার উদ্যোক্তা জীবনের প্রথম যাত্রা  সকলের দোয়ায় ভালোই  আশানুরূপ  সাড়া পেয়েছি, কিন্তু মনের মধ্যে একটা বাসনা ছিল যে কখন আমার আম্মুর  এই 2️⃣0️⃣0️⃣0️⃣0️⃣ হাজার টাকা দ্বিগুণ করে আমার আম্মুর  হাতে তুলে দেব, আল্লাহ আমার মনের কথা শুনেছেন মাত্র 2️⃣0️⃣দিনে এই টাকা দ্বিগুণ করে আমি আমার মায়ের হাতে তুলে দেই। এটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় খুশির দিন জীবনে প্রথম মায়ের দুচোখে আনন্দের অশ্রু  দেখেছি। শুরু হয়ে গেল আমার উদ্যোক্তা জীবনের গুটি গুটি পায়ে পথ চলা সফল উদ্যোক্তা হওয়ার বাসনা নিয়ে।

🤝 নিজের বলার মত একটা গল্প ফাউন্ডেশন এর সাথে পরিচয় :-

💕একদিন আমারই একজন রিলেটিভ আমাদের বাসায় বেড়াতে আসে কথা প্রসঙ্গে যখন জানতে পারে আমি উদ্যোগ গ্রহণ করেছি তিনি আমাকে পরিচয় করিয়ে দেন প্রিয় ফাউন্ডেশনের সকল কার্যক্রমের ভিডিও চিত্রের সাথে  আরো পরিচয় করিয়ে দেন প্রিয় ফাউন্ডেশন থেকে সফল উদ্যোক্তাদের ভিডিও কনফারেন্স লাইভ এর সাথেএবং  আমাদের প্রিয় স্যারের মূল্যবান সকল সেশনের সাথে আমাদের সকলের প্রিয় নিজের বলার মত একটা গল্প ফাউন্ডেশন এর আজীবন সদস্য ফরিদ আহমেদ ভাই।  আছেন  কোনাবাড়ী জোনের সাথে ভাইয়ের প্রতি রইল আমার অনেক অনেক দোয়াও ভালবাসা ভাইয়ার ব্যবসায়ী উদ্যোগ জীবনের সফলতা কামনা করছি কৃতজ্ঞ থাকব আজীবন এই প্রিয় ফাউন্ডেশনে আমাকে সংযুক্ত করে দেয়ার জন্য। গত ১৪ ই মে ২০২৩ আমি প্রিয় ফাউন্ডেশনে আজীবন সদস্য হিসেবে রেজিস্ট্রেশন করি। সহযোগিতা করেছেন প্রিয় ভাই ফরিদ আহমেদ ভাই

💕প্ল্যাটফর্ম থেকে  শিক্ষা 💕
******--*-*************
✍️আমি প্ল্যাটফর্ম থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি, আমি আগে কারো সাথে কথা বলতে গেলে ভয় লাগতো,কিন্তু এখন আমি কথা বলতে পারি আমার ভেতরের ঘুমিয়ে থাকা সম্ভাবনাকে কে জাগিয়ে তুলতে  পেরেছি, অনেক ধন্যবাদ গাজীপুর জেলা টিমকে নিয়মিত সেশন চর্চা ক্লাসের আয়োজন করার জন্য আলহামদুলিল্লাহ কথা বলার জড়তা আমি কাটিয়ে উঠতে পেরেছি মন থেকে সকল ভয় ভেনিস করে দিয়েছি, আজ আমি সেশন চর্চা ক্লাসে উপস্থাপনা করতে শিখেছি পোস্টিং করতে শিখেছি সবই এই প্লাটফর্মের ভালোবাসার প্রাপ্তি,,,,

💕💕প্রিয় স্যারের যে কথায় অনুপ্রাণিত হয়েছি :::

1️⃣স্বপ্ন দেখুন, সাহস করুন, শুরু করুন, লেগে থাকুন, সফলতা আসবেই।
2️⃣চাকরি করব না, চাকরি দিব।
3️⃣বৃষ্টি সবার জন্য পড়ে, ভিজে কেউ কেউ।
4️⃣নিজের বলার মত একটা গল্প তৈরি করতে হবে।
5️⃣আমরা সবাই ভালো মানুষ।
6️⃣সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হচ্ছে সততা ও কমিটমেন্ট।
🪔তাছাড়া  ও প্রিয় প্লাটফর্মের শপথ বাক্য নতুন করে অনুপ্রেরণা দেয়

🫂আমার প্রিয় ব্যাক্তি
আমার বাবা-মায়ের পরে যাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবেসেছি সে হলো মমতাময়ী স্নেহময়ী বড় বোন।

💕উদ্যোক্ত জীবনে যার অনুপ্রেরণায় এতদূর  পর্যন্ত  আসার সাহস করতে  পেরেছি  তার মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় মানুষটি হল আমার.....
♥️প্রিয় মেন্টর, প্রিয় স্যার, জনাব Iqbal Bahar Zahid স্যার।  স্যারের  কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে এবং স্যারের শিক্ষা বুকে লালন করে আমিও শুরু করেছি নিজের  উদ্যোক্তা জীবনের প্রভাত ফেরি।

🤝 কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি প্রিয় স্যারের প্রতি।

💥ছোটবেলা থেকে আমার স্বপ্ন ছিল, অনেক বেশি বেশি টাকা-পয়সা ইনকাম করে সমাজের  সুবিধা বঞ্চিত মানুষের  পাশে দাঁড়াবো,  একটি বৃদ্ধাশ্রম তৈরি করব। ইনশাআল্লাহ আমার এই স্বপ্ন পূরণের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছি।সময় দিয়েছি নিজেকে একদিন সবকিছু ঠিক হবে সেই প্রত্যাশায়।

💕এবার আমার লক্ষ্য একজন সফল উদ্যোক্তা ও ভালো মানুষ  হওয়া। সব সময় যেন মানুষের সেবা করতে পারি।

ইনশাআল্লাহ আমি হব একজন সফল উদ্যোক্তা
ইনশাআল্লাহ সততা নিয়ে কাজ করে যাব, সকলে দোয়া করবেন আমার জন্য, আমিও সবার জন্য দোয়া করব।

💕এতক্ষণ ধৈর্য ধরে আমার জীবনের গল্প পড়ার জন্য সকলকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা রইলো আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে। 

🙏ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা করে দিবেন 🙏

🔰স্ট্যাটাস অফ দ্যা ডে ৯৫৫
তারিখ ০১-০৮-২০২৩ ইং

🍀ধন্যবাদান্তে 🍀

💁‍♂️নাসরিন আকতার
💁‍♂️নিঝুম কালেকশনের অনার
✍️ব্যাচ নং2️⃣2️⃣
✍️রেজিস্ট্রেশন নং1️⃣1️⃣9️⃣8️⃣6️⃣1️⃣
⭕ব্লাড গ্রুপ বি প্লাস
🏡জেলাঃ চট্রগ্রাম থানা হাটহাজারী ক্যান্টনমেন্ট ৩ নং বাজার
🏠বর্তমান ঃগাজীপুর চৌরাস্তা বাসন সড়ক
🌺নিজের বলার মত একটা গল্প ফাউন্ডেশন এর আজীবন সদস্য.

ফরিদপুর জেলা টিম কর্তৃক আয়োজিত বৃক্ষরোপন কর্মসূচি -২০২৪

ইনশাআল্লাহ ফরিদপুর জেলার বাকি ৮টি উপজেলায় এই কর্মসূচি চলমান থাকবে। অনেক বেশি ধন্যবাদ Iqbal Bahar Zahid স্যার কে ॥

পর্দাশীল ঘরোয়া নারী- সফল উদ্যোক্তা

আমি রান্নাটা ভালো পারি, রান্নাটা নিয়েই পেজ খুলি অনলাইনে কাজ করি। প্রথম অর্ডার আসছিল পিৎজা ডেলিভারির। আলহামদুলিল্লাহ তারপর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ।