তাহলে কি আমাকে দিয়ে হবে না? জীবন যুদ্ধে আমি কি হেরে গেলাম?

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম


জীবনের গল্প


আসসালামু ওয়ালাইকুম। আশা নয়, বিশ্বাস করি আল্লাহ্ এর রহমতে যে যার যায়গা থেকে অনেক অনেক ভালো আছেন? আমিও আল্লাহ্ এর রহমতে আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি,সুস্থ আছি আলহামদুলিল্লাহ্।


শুরুতেই মহান আল্লাহ তায়ালার উপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে বলতে চাই আমি যে আজ এই পৃথিবীতে সুস্থ -সুন্দর জীবন যাপন করতে পারছি তার জন্য আল্লাহর উপর লাখো কোটি শুকরিয়া। (আলহামদুলিল্লাহ)
অফুরন্ত ভালোবাসা ও সীমাহীন কৃতজ্ঞতা জানাই আমার জন্ম দাতা বাবা - মায়ের প্রতি। আল্লাহর ইচ্ছায় যাদের উছিলায় এত সুন্দর পৃথিবীতে আমার আগমন ঘটেছে।


অপরিসীম কৃতজ্ঞতা আমাদের প্রিয় মেন্টর,শিক্ষক, উদ্যােক্তা তৈরী করার পথ প্রদর্শক জনাব
#ইকবাল বাহার স্যারের প্রতি।
যিনি এতগুলো ভালো মানুষের মিলন মেলা তৈরী করে দিয়েছেন আমাদের জন্য। যার অনুপ্রেরণায় এবং নির্দেশে আমি আজ আমার জীবনের গল্প লিখতে বসেছি।
সকলেই আমাকে সাপোর্ট ও সহযোগীতা করে পাশে থাকবেন।আমিও থাকবো ইনশাআল্লাহ।

জীবনের মূল গল্প


জন্ম ও পরিবার :- বৃহত্তর ময়মনসিংহ বিভাগের মুক্তাগাছা উপজেলায় আমার জন্ম। চার ভাই- বোনের মাঝে পরিবারের বড় সন্তান আমি। বাবার চাকরির জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরির সুযোগ হয়েছে।


অনেক কষ্ট করে আরেকটা যুদ্ধ জয় করে ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজে ভর্তি পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হতে পারি। তখন থেকেই একটাই স্বপ্ন দেখি একটা চাকরি নিতেই হবে। অনার্সে পড়া অবস্থায় বিয়ে হয়ে যায়। শুরু হয় নতুন যুদ্ধ। তখন পড়ালেখা চালিয়ে নেওয়াটাই যেখানে কষ্ট হয়ে যায় সেখানে চাকরির প্রস্তুতি কি করে সম্ভব? তবুও চাকরীর বই কিনে ফাঁকে ফাঁকে পড়তাম। এর মাঝে আমার একমাত্র মেয়ের জন্ম হয়।
আস্তে আস্তে আরো বাধা আসতে থাকে। তবুও চেষ্টা করে যাচ্ছি, যেনো লেখাপড়া শেষ করে একটা চাকরি পেয়ে সকলের আশা ও তাদের ভুল বুঝাটার অবসান ঘটাতে পারি।

যখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসি ততদিনে আমার চাকরির বয়স শেষ


এত পড়ালেখা করে চাকরি হলোনা বলে অনেকেই শেষ হাসিটা হাসলো। বুঝিয়ে দিলো আগেই বলেছিলাম এত পড়ালেখা করে কি হবে? আমি শুধু চুপচাপ কথাগুলো শুনলাম। কোন উত্তর ছিলো না আমার কাছে। এর মাঝেই শুরু হয় করোনা।

২০২০ সাল : -উদ্যােক্তা জীবন শুরু করি। রান্না আমার খুব পছন্দের একটা কাজ। ভালো লাগতো। এটা দিয়েই শুরু করি। ফাস্টফুড,কেক বানিয়ে বিক্রি করতাম। একটা দোকানেও দিতাম, মোটামুটি চলতো। কিন্তু প্রয়োজনীয় সাপোর্ট পাইনি বলে বেশি দিন চালাতে পারলাম না।

নিজের বলার মতো গল্প ফাউন্ডেশানে রেজিষ্ট্রেশন করি ১১তম ব্যাচে। ফুড আইটেম দূরে পাঠানো যায় না বলে থ্রি-পিস নিয়ে কাজ শুরু করি। নারায়নগঞ্জের বান্টি বাজার থেকে ফাউন্ডেশনের এক ভাইয়ার থেকে বাটিক থ্রিপিস এনে কাজ শুরু করি। কিন্তু আমিতো কাপড়ের ব্যাবসায় অভিজ্ঞ না। তাই ভালো ফলাফল পাচ্ছিলাম না। মন ভেঙে যায়। এর মাঝে আমার আইডিটা নষ্ট হয়ে যায়


সব মিলিয়ে যা-তা একটা অবস্থা। সব কিছু থেকে বিরতি নিয়ে নিলাম। কিন্তু উদ্যােক্তা হওয়ার স্বপ্নটা মনেই রয়ে গেল।


প্রায় রাতই ঘুমাতে পারতামনা,এত যুদ্ধ করে পড়ালেখা করে কি পেলাম। আমিতো ব্যর্থ। এই কষ্ট আমাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। তাহলে কি আমাকে দিয়ে হবে না? জীবন যুদ্ধে আমি কি হেরে গেলাম?

২০২৩ সাল: - আবার ঘুড়ে দাড়ানোর চেষ্টা।
"হার জিত চিরদিন থাকবে, তবুও এগিয়ে যেতেই হবে,
বাধা- বিঘ্ন না পেরিয়ে বড় হয়েছে কে কবে?
আবারও প্রিয় ফাউন্ডেশনে যুক্ত হই। এবার আমার মনে ভীষণ জিদ চাপে, আমাকে পারতেই হবে। কেন পারবো না? বার বার এই প্রশ্ন জাগে মনে। আবার স্যারের সেশন পড়তে শুরি করি। নতুন করে স্বপ্ন দেখি। জীবনের প্রয়োজনে চলে আসি কক্সবাজার। সমুদ্রের সামনে দাড়িয়ে ভাবছি "সত্যিই কি আমি জীবন যুদ্ধে পরাজিত সৈিনক"? আরেকবার কি শেষ চেষ্টা করে দেখা যায় না? সবাই যখন সমুদ্র স্নানে ব্যস্ত তখন আমি চেয়ে আছি সেই ছোট ছোট শিশুগুলোর দিকে, যারা জীবিকার তাগিদে ফেরিওয়ালার কাজে ব্যস্ত।

নতুন করে সাহস সঞ্চয় করি। স্যারের কথা মতো কাজে শুরু করি। দেখলাম কক্সবাজারের শুটকির চাহিদা আমাদের দেশে অনেক বেশি। শুরু হলো বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুড়ে ভালো শুটকির সন্ধান করা। তারপর শুটকি নিয়ে কাজ শুরু করলাম। তিনমাস পেরিয়ে যাবার পর যখন সবার খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি, তখন
নিজের এলাকা মুক্তাগাছায় শোরুম নেওয়ার চিন্তা করি ও সবার চাহিদা মতে তা শুরু করলাম। যেখানে থাকবে কক্সবাজারের শুটকি,এবং বিভিন্ন বার্মিজ আইটেম। যা আমাদের এলাকায় সচরাচর পাওয়া যায় না।
আগষ্ট মাসের শেষ সপ্তাহের দিকে আমার শোরুম এর শুভ উদ্বোধন টা করতে চাচ্ছি। যাতে আমিও হতে পারি সফল একজন।

আমার স্বপ্ন আজ সত্যি হতে চলেছে। মেয়ে হয়ে একটা শোরুম দাড় করানো আমাদের সমাজে অনেক কঠিন। আজ সকলেই এই শোরুম দেখবে কিন্তু কেউ হয়ত জানবেই না আমার আজকের এই দিন দেখার জন্য কত বছর চলে গেছে জীবন থেকে। আমরা সবাই সফলতা দেখতে চাই পেছনের গল্পটা শুনার আগ্রহ হয়না কারো। আমি শুধু এটাই সবাইকে বুঝাতে চাই, পড়ালেখা করে চাকরি না হলেই জীবন থেমে যাবে না। চেষ্টা মানুষকে অনেক উপরে নিয়ে যেতে পারে। আমি সফলতা পেয়ে গেছি বলছি না,তবে হয়ত সফলতা পাবার পথ তৈরী করতে পেরেছি।

তবে,আমি বরাবরই একটু চাপা স্বভাবের। কষ্ট পেলেও কাউকে বলতে ইচ্ছে করে না। জোরে জোরে কাঁদতে পারি না। নিরবতাই আমার জীবনের একটা অংশ। জানি এতে কষ্ট অনেক বেশি হয়।
তারপরও আজ আমাদের ফাউন্ডেশনের ভাই -বোনদের সাথে আমার জীবনের গল্প শেয়ার করার কিছু উদ্দেশ্য ছিলো। যা আমি নিজের জীবন থেকে শিখেছি।
যেমন :-
১. আমি না বুঝে শুধু লাভের কথা চিন্তা করে উদ্যােগ নিয়েছি।
২. সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি।
৩. ধৈর্য্য না ধরে সব কিছু থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি।
৪. নিজের সাথে রাগ করে সময় নষ্ট করেছি।
আমার জীবন থেকে প্রায় চার বছর হারিয়ে গেছে শুধু সিদ্ধান্তহীনতার মাঝে। যার ফলে আমি সফলতা থেকে অনেক পিছিয়ে গেছি। আশা করছি আপনারা এই কাজগুলো থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবেন।
"জীবনে বড়,সফল ও সুখী হতে হলে পজেটিভিটির কোন বিকল্প নেই। আপনি পারবেন,কেন পারবেন না? সবাই পারলে আপনিও পারবেন।"
বাণীতে,
আমাদের প্রিয় ইকবাল বাহার জাহিদ স্যার।


আমার লেখায় কোন ভুল- ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি।
এত কষ্ট করে সকলের মূল্যবান সময় নষ্ট করে আমার লেখা পড়ার জন্য আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ। লাইক কমেন্ট করে পাশে থাকলে কৃতজ্ঞ থাকবো। সকলকেই অসংখ্য ধন্যবাদ।
📌"স্ট্যাটাস অব দ্যা ডে"- ৯৫৬
Date:- ০৮/০৮/২০২৩ইং
শাকিলা সুলতানা
ব্যাচ : ২২
রেজিষ্ট্রেশন : ১১৯২৮৬
জেলা : ময়মনসিংহ
বর্তমান অবস্থান : কক্সবাজার।