See More Post

করনা মহামারিতে পরিবারে পড়া লেখা বন্ধ হয়ে গেলো তখন হাল ধরতে হলো

আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ। প্রথমেই শুকরিয়া জ্ঞাপন করি সেই মহান রাব্বুল আলামিন এর কাছে। যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন সৃষ্টির সেরা জীব আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে এবং এখনো পর্যন্ত তার রহমতেই সুস্থ ও ভালো আছি। বিধাতার   রহমতেই এই পর্যন্ত আসতে পেরেছে এজন্য তার কাছে শুকরিয়া আদায় করি আলহামদুলিল্লাহ।


************** প্রিয় ফাউন্ডেশনর চমৎকার একটা কার্যক্রম জীবনের গল্প শেয়ারিং। প্রত্যকটা জীবনেরই সুখ,দুঃখ, হাসি,  কান্নার গল্প থাকে যে গল্পের কথা গুলো আমাদের অতিতের ভুল গুলো শোধরে নিয়ে  ভবিষ্যতে সফল হবার উৎসাহ অনুপ্রেরণা দেয়। প্রিয় ফাউন্ডেশনে যুক্ত হবার পর থেকে অনেক গল্প পড়েছি যা এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিবে। সেই  ধারাবাহিকতায় আমি আমার জীবনের  ছোট্ট একটি  গল্প শেয়ার করছি।আশা করি ধৈর্যসহ পড়বেন ও অনুপ্রেরণা উৎসাহ দিয়ে পাশে থাকবেন। 


 


জীবনের গল্প মানেই নতুন কোন সম্ভাবনার গল্প। আসুন জেনে নেই এই গল্পের শুরু থেকেই-


★★ জন্ম ও পরিবার★★

আমার জন্ম ১৯৯৯ সালের জানুয়ারি মাসে। পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ  উপজেলার ২ নং মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নে।আমি এক কৃষক পরিবারের সন্তান আমার বাবা একজন কৃষক । আমরা ৮ ভাই বোন আমার বাবার ৪ নম্বর ছেলে। আমার বাবা ২ টা বিয়ে করে। বড় মায়ের ৩ সন্তান ২ ভাই ১ বোন। ২ য় মায়ের ৫ সন্তান ৪ ভাই ১ বোন । আমার মায়ের আমি বড় ছেলে। দাদা দাদীকে আমার দেখার সুযোগ হয় নায়। আমার জন্মের আগে তারা মারা গিয়েছে। নানা নানিকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে তাদের বড় নাতি হওয়ায় আমাকে খুব আদর করতেন তারা।  ২০১৬ সালে নানা মারা যায় আল্লাহ তায়ালা তাকে বেহেশত নসিব করুন। 

 


★★শৈশব কাল ★★

আমার শৈশব কাল কাটে মির্জাগঞ্জ উপজেলার এক অজপারা গায়ে । পায়রা নদীর পাড়ে আমার বাড়ি এই নদীর সাথে অনেক সৃতি জড়িয়ে আছে যেমম : নদীতে মাছ ধরা,ডুবানো, নদীর চরে বল খেলা,    গোসল করা, নই নই খেলা। যত প্রকার দুষ্টামি আছে তা করে মায়ের হাতে মার খাওয়া দৈনিক রুটিন বলা যায়। 


আমার  প্রাথমিক  লেভেলের লেখা পড়া খুব ভালো চলছিল।  ৫ম শ্রেনীতে পড়া অবস্থায় আমি একটা এক্সিডেন্ট করি। প্রথম বারের মতো  ঢাকায় গিয়েছিলাম আমার   দুলা ভাইয়ের সাথে বেড়াতে। দুলা ভাই সেনেটারি কন্ট্রাকটার। তার সাথে সকালে ঘুরতে বের হই তার সাইটে কাজ চলে সেখানে যাই। ভাগ্য যখন সহায় না হয়। তখন সাধারণ কোন বিষয়েও আমাদের অনেক ভোগান্ততে পড়তে হয়। ঠিক তাই   হয়ে ছিলো আমার  সাথে। খুব ছোট ছিলাম তাই সব বিষয়৷ কৌতুহল টা অনেক বেশি ছিলো। সেই কৌতুহল আমাকে অনেক বড় বিপদ পড়তে হয়। আমি ৫ তলা একটা বিল্ডিং এর   ছাদে গিয়ে দেখছিলাম নিচে মিস্ত্রিরা কিভাবে  কাজ করে করছে । দেখতে গিয়ে আমি নিচে পরে যাই 😭😭😭😭পরে যাওয়ার পরে আর কিছু বলতে পারি না। ২০১১ সালের মার্চ মাসে,  সকাল ৯ টায় এক্সিডেন্টে বেহুস হই  বিকাল ৩ টায় হুস  হই। পেটের ভিতর লোহা ডুকে যায় ডানপায়ের হাড় ভেঙে যায়। ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ১ মাস ১৭ দিন ছিলাম। মৃত্যু কে যেন খুব কাছ থেকে দেখে ছিলাম সে সময়।  অপারেশন করে পায়ের ভিতর পাত ডুকানো হয়েছিল। ৬ মাসেরও বেশি বিছানায় কাটিয়েছি। আল্লাহ পাকের রহমত মা-বাবার দোয়ায় সুস্থতা লাভ করি।

আমার মা বাবা আমার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। মা বাবার ঋণ কোন দিনও শোধ করা যায় না আমি তো কোন দিনও শোধ করতে পারব না। আমার চিকিৎসার জন্য ব্যাপক টাকা খরচ হয়। আমার পরিবার অভাবে পরে যায় আমরা ভাই বোন লেখা পড়া করবে তা  খরচ চালানোর এবং পরিবার চালানো কষ্ট হয় যায়। এদিকে  বড় ভাইয়েরা বিয়ে করে আলাদা আলাদা সংসার করে  ঢাকায় থাকে।  পরিবারে এই দূর দিনে তখন কারো সহযোগিতা পাই না। আমার পরিবার একটা অসহায় অবস্থায় পড়ে যায়। 


★★আমার লেখা পড়া★★


মামা খালাদের সাহায্যে লেখা পড়া কোন রকম চালিয়ে যাই। এলাকার জেলেদের সাথে কাজ ভাগি ( সারা দিনে যে মাছ পেত তার তিন ভাগের এক ভাগ আামাকে দিত)  মাছ ধরে, সুপারি পারতাম, টেরক্টর চালিয়ে, লেখা পড়া চালিয়ে যাই। বাবার কাজে সাহায্য করে স্কুলে যাইতাম প্রতিদিন যাইতেও পারতাম না। কোন রকম এস এস সি পাশ করি ৪.০০ পেয়ে। আমার সেজ খালুকে ধন্যবাদ  না দিলে নয় তিনি আমাকে বরিশালে নিয়ে যায়। তিনি বরিশাল সদর গার্লস স্কুলের শিক্ষক। তার একটা প্রাইভেট সেন্টার আছে ওখানে চাকরি দেন। গ্রামের কলজে ভর্তি হয়ে বরিশালে টিউশনি করি কচিং সেন্টারে স্টুডেন্ট পড়ানো প্রতি মাসে ভালো টাকা আয় করতে পারি। পরিবারকে সাহায্য করতে পারি আলহামদুলিল্লাহ। এইচ এস সি পাস করি ২০১৯ সালে ৩.৪৯ পেয়ে ।  সুবিদ খালী ডিগ্রি কলেজে অনার্সে ভর্তি হই।  ২০২০ সালে করনা মহামারিতে  কোচিং এবং টিউশনি বন্দ হয়ে যায়। তখন যেন চারদিকে অন্ধকার হয়ে আসলো। 


★★পারিবারিক দায়িত্ব নেওয়া★★

করনা মহামারিতে পরিবারে পড়া লেখা বন্ধ হয়ে গেলো তখন  হাল ধরতে হলো। 

সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছি কিভাবে লেখা পড়া করব কিভাবে সংসার চালাব। তখন একজনের সাথে  ডিপ টিউবলের সাইটে কাজ করে সংসার চালাইয়েছি মোটামুটি। এর মাঝে বাবা অসুস্থ হয়ে যায় দূর্বল হয়ে যায় চাষাবাদ করতে পারে না। সব কিছু মানিয়ে নিয়ে চলতে থাকে জীবন। টিউবল সাইটে কাজ করা অবস্থায় খুজতে থাকি একটা চাকরি আল্লাহর রহমতে হয়ে যায়।


★★চাকরি জীবন★★  

 বর্তমান কর্মস্থান কেমিস্ট ল্যাব লি,এ এস আর হিসেবে চাকরি হয়। আমি লেখা পড়া বন্ধ করে দিয়েছিলাম ৩ বছর পরে আবার ডিগ্রিতে লেখা পড়া শুরু করেছি। 

আল্লাহর দরবারে লক্ষ কোটি শুকরিয়া আদায় করছি আমাকে সুস্থ রেখে আমার পরিবার এবং ছোট ভাই বোন কে লেখা পড়া করনো সংসার চালাতে পারতাছি।

আমি চাকরি করে কোন টাকা পাই তা দিয়ে সংসারের সব কাজ করতে পারি না। সংসার চালাতে ছোট ভাই বোনদের লেখা পড়া সব খরচ মিলে হিমশিম খেতে হতো। তারপর কোন মতো দিন চলছিলো আলহামদুলিল্লাহ। 


আল্লাহর দরবারে লক্ষ কোটি শুকরিয়া  আদায় করছি  আমাদেরকে যেভাবে রাখছেন। বাড়ির আসে পাসে সবাই বলতেন আমার পরিবার ঢাকার শহর যাইতে হবে  ছেলে মেয়ে মানুষ হবে না। হবে টোকাই, ডাকাত, ভালো হবে না।  (ধৈর্যের  ফল অতি মিষ্টি হয়)  আমার বাবা ঢাকা না গিয়ে তাদের প্রমাণ করে দিলেন গ্রামের পরিবেশে ছেলে মেয়ে মানুষ করা যায়। যারা আমাদের কে বলেছেন  মানুষ হবে না তাদের থেকে আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। 


★★ফাউন্ডেশন যুক্ত হবার গল্প★★

ফার্মাসিউটিক্যাল জবে যুক্ত হবার পর থেকে উদ্যোক্তা হবার স্বপ্ন দেখতে থাকি। এই সেক্টরেই উদ্যোক্তা হবার মনোনিবেশ করলাম।যেহেতু চাকরি সুবাদে এ বিষয়ে অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমার বিশ্বাস আমি এই বিষয় কাজ শুরু করলে ভালো করতে পারবো ইনশাআল্লাহ। আমি আমার উদ্যোগ ও স্বপ্নের কথা প্রায় সময় পটুয়াখালী জেলার কমিউনিটি ভলান্টিয়ার ★জি এইচ বিজয়★- ভাই এর সাথে শেয়ার করতাম।  সে আমার ফুফাত ভাই। সম্পর্কে রেশ ধরে প্রায় সময় কথা হতো, হতো ভবিষ্যৎ স্বপ্ন শেয়ার। একদিন কথায় কথায় বিজয় ভাই আমাকে ★নিজের বলার মতো একটা গল্প  ফাউন্ডেশনের★- এর গ্রুপ লিংক দেয়। আর বলে কিছু সময় ভিজিট করে দেখ। আশা করি তোমার ভালো লাগবে। তারপর আমি গ্রুপে যুক্ত হলাম কিছু দিন স্যারের সেশন গ্রুপে সবার এক্টিভিটি দেখলাম যা আমার খুব ভালো লাগে। তারপর আমি বিজয় ভাই এর সহযোগিতায় রেজিষ্ট্রেশন করে নিজ জেলা মেসেঞ্জারে সাগরকন্যা পটুয়াখালী তে যুক্ত হলাম।এখানে যুক্ত হবার পর আরো ভালো লাগা কাজ করলো।প্রতিদিনের সেশন মিটআপ আরো অনুপ্রেরণা দিচ্ছে এগিয়ে যাওয়ার। আমার স্বপ্ন পূরণের জন্য আমি লেগে আছি।আশা করি আমি আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পৌঁছাতে পারবো।


★★কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন★★

 ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা  জানাই আমাদের সকলের চোখের মনি। যাকে নিয়ে আমরা সবাই গর্ব করি উদ্যোক্তা গড়ার কারিগর। যিনি তৈরি করেছেন হাজারো উদ্যোক্তা যিনি সাহস যুগিয়েছেন হাজার মানুষের মনে সে আর কেউ নয় আমাদের সবার প্রিয় আমাদের মেন্টর জনাব Iqbal Bahar Zahid sir এর প্রতি। আল্লাহ পাকের দরবারে স্যারেে জন্য অনেক অনেক দোয়া রইলো। তিনিসহ তার পরিবারের সবাইকে আল্লাহ পাক ভালো ও সুস্থ রাখুন। আমিন


বিশেষ ধন্যবাদ জানাই জে এইচ বিজয় ভাই কে নিজের বলার মত একটা গল্প ফাউন্ডেশন এর সাথে পরিচয় করে দেওয়ার জন্য।  আপনার জন্য দোয়া ও ভালো বাসা রইল সবসময়। ভালো মানুষের পরিবারের সাথে  যুক্ত হয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি।

ধন্যবাদ জানাচ্ছি পটুয়াখালী জেলা টিমের দায়িত্বশীল, ভলান্টিয়ার ও  আজীবন সদস্য ভাই ও বোনদের যাদের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা আজকে সহসে  আমার গল্প শেয়ার করা।আল্লাহ পাক সবাইকে ভালো ও সুস্থ রাখুন। 


 


নিয়মিত সেশন চর্চা ক্লাস করছি। নিজেকে তৈরি করছি একটু একটু করে সফল একজন   উদ্যোক্তা  হবার জন্য । নিজের বলার মতো একটি গল্প তৈরির জন্য। 

সকলের কাছে দোয়ার দরখাস্ত রইল। আল্লাহ তায়ালার দয়ায়  যেন আমি  আমার লক্ষ্য  পৌঁছাতে পারি।


অসংখ্য ধন্যবাদ প্রিয় সবাইকে ধৈর্য্যসহদ আমার গল্পটা পড়ার জন্য। 


স্যাটাস অফ দ্যা ডে -৯৭১

তারিখ : ০৮-১২-২০২৩

নামঃসুজন হোসেন 

ব্যাচঃ ২২ তম

রেজিঃ১২০৩০১

জেলাঃসাগর কন্যা পটুয়াখালী 

থানাঃমির্জাগঞ্জ

বর্তমান অবস্থান ঃসিলেট 

পেশাঃপ্রাইভেট কোম্পানি 

মেডিকেল প্রমোশন অফিসার।

ফরিদপুর জেলা টিম কর্তৃক আয়োজিত বৃক্ষরোপন কর্মসূচি -২০২৪

ইনশাআল্লাহ ফরিদপুর জেলার বাকি ৮টি উপজেলায় এই কর্মসূচি চলমান থাকবে। অনেক বেশি ধন্যবাদ Iqbal Bahar Zahid স্যার কে ॥

পর্দাশীল ঘরোয়া নারী- সফল উদ্যোক্তা

আমি রান্নাটা ভালো পারি, রান্নাটা নিয়েই পেজ খুলি অনলাইনে কাজ করি। প্রথম অর্ডার আসছিল পিৎজা ডেলিভারির। আলহামদুলিল্লাহ তারপর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ।