See More Post

আমার জীবনের গল্প

🎆বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম 🎆

      🌟 আমার জীবনের গল্প 🌟

আসসালামু আলাইকুম রহমাতুল্লাহ্

⚛️আজ আমি আমার এই ছোট জীবনের গল্প আপনাদের সবার সাথে শেয়ার করবো। আশা করি সবাই আমার জীবনের গল্পটি পড়বেন।

প্রথমে শুকরিয়া জানাই মহান আল্লাহর দরবারে যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, এবং সাথে দিয়েছেন অনেক রকমের মেধা,যোগ্যতা ও শ্রম করার শক্তি। এবং "নিজের বলার মতো একটা গল্প " ফাউন্ডেশনে যুক্ত হওয়ার তাওফিক দান করেছেন। লক্ষ কোটি দুরুদ ও শান্তি বষিত হোক প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর প্রতি।

কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানাই আমাদের সকলের প্রিয় শিক্ষক জনাব " ইকবাল বাহার জাহিদ" স্যারকে। যিনি এতো সুন্দর একটা প্লাটফর্ম তৈরী করে দিয়েছেন আমাদের মাঝে।

আমি মহান আল্লাহর দরবারে স্যার সহ তার পরিবারের সকলের জন্য দোয়া করছি। আল্লাহ যেন সবাইকে সুস্থতা ও নেক হায়াত দান করেন।- আমিন।

আসলে প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে কোন না কোন গল্প থাকে।  যে গল্পে থাকে হাসি, আনন্দ, বেদনা,পাওয়া না পাওয়া ইত্যাদি বিষয়। তার পরে ও আমার জীবনের কিছু কথা আপনাদের মাঝে তুলে ধরবো।

আমার জম্ম ১৯৮৩ সালে। আমি গ্রামের একটা ছেলে। গ্রামের ৫/১০ টা ছেলেদের মতো বেড়ে ওঠা। আমি ছিলাম মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। আমরা ৩ ভাই। আমি ছিলাম মেঝো। আমার বাবা ছিলেন দোকানদার ব্যবসায়ীক। মা ছিলেন গৃহিণী।

আমি আর বড় ভাই প্রথমে বালিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হই। ভাই আমার থেকে এক ক্লাস উপরে পড়তেন। আমি ও ভাইদের লেখা পড়ার হাতে খড়ি আমার 'মা'র কাছ থেকে। আমার মা ছিলেন তখনকার ৫ম শ্রেণী পাশ। আমার 'মা' আমাদের আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যেটা করার প্রয়োজন ছিল তার শতভাগ তিনি চেষ্টা করেছেন।

আমার মায়ের কথা বলতে চাই। আমি পৃথিবীর সমস্ত মাকে শ্রদ্ধা রেখে বলছি। আমার মা খুবই সাধারণ ও সরল মনের মানুষ। আমার মাকে কখনো দেখিনি আমার বাবার কথা অবাধ্য হতে। আমি আমার মা কে অনেক ভালোবাসি।

বালিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থেকেই প্রাথমিক পড়া শেষ করে বালিয়াকান্দি হাইস্কুলে ভতি হই। ছাত্র হিসাবে খারাপ ছিলাম না। মোটামুটি ভালো। ১৯৯৯ সালে এ S S C পাশ করি। ১৯৯৯ সালে বালিয়াকান্দি কলেজে ভতি হই।নতুন নতুন কলেজে গিয়ে নিজেকে আবিষ্কার শুরু করলাম। নিজের ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে শুরু করলাম। সুন্দর চলছে কলেজ জীবন। বড় ভাই ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে। আমি ফাস্ট ইয়ারে। ছোট ভাই ক্লাস ফোরে।বড় ভাই আর আমি প্রায় সমবয়সী থাকায় অনেক ফ্রী ছিলাম।

২০০০ সালে ১০ মার্চ সকালবেলা ভাই ব্রাদার মিলে অনেক মজা করি।পরে আমরা কলেজে যাই।ছোট ভাই ও স্কুলে চলে যায়। আমি সেই দিন দুপুরে ৪/৫ জন বন্ধুদের সাথে কলেজ থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে অন্য এক বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যাই। বন্ধুরা মিলে মজা হইহুল্লা করি। বিকালে খবর পাই। আমার 'মা'অসুস্থ হয়ে পরেছে।

আমার মা স্টক করে। খবর শুনা মাএ পাগলের মতো ছুটে চলে আসি বাড়িতে। এসে শুনি রাজবাড়ী জেলা হাসপাতালে 'মা'কে নিয়ে গিয়েছে। শুনামাএ আবারও ছুটা শুরু করলাম হাসপাতালে। আমার বাড়ী থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে জেলা সদর হাসপাতাল। হাসপাতালে পৌঁছে শুনতে পাই।

আমার 'মা'কে বাড়িতে নিয়ে গিয়েছে। আকাশ ভেঙে মাথায় পরলো মনে হয়, বুঝতে আর বাকি রইলো না।আবার ছুটাছুটি বাড়ির উদ্দেশ্যে।রাত প্রায় ১১ টা,বাড়ি এসেই দেখি ঘরের বারান্দায় 'মা'কে শুয়ানো। কাছে গিয়ে মায়ের মুখখানা দেখতেই মা বলে চিৎকার করে অজ্ঞানের মতো হয়ে যাই। রাতভর আত্মীয় স্বজনদের আনাগোনা কান্নাকাটি,রাত শেষ।

সকাল বেলাতে আবার নতুন, পুরাতন আত্মীয় ও প্রতিবেশিদের আগমন বাড়িতে। গোসল, কবর দেওয়া।  মায়ের শোকে আমাদের ৩ ভাইয়ের লেখা পড়া সব বন্ধ। খুব খারাপ সময় পার করেছিলাম।

পৃথিবীর সমস্ত মায়েরা তাদের সন্তানকে আগলে রাখেন ভালোবাসেন সকল মায়ের প্রতি রইল আমার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। যে সমস্ত মায়েরা ইহকাল ত্যাগ করে পরকাল গমন করেছেন। মহান আল্লাহর পাক রাব্বুল আলামিন সেই সমস্ত মায়েদের জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুক। আমিন।

মায়ের মৃত্যুর বছর শেষ দিকে আমার আত্নীয় স্বজনেরা সবার অনুমতি ক্রমে আমার বাবাকে আবার বিয়ে করিয়ে দেয়া হয়। শুরু হলো জীবন সংসারের নতুন অধ্যায়। নতুন অধ্যায়ে বেশি কিছু বলতে চাই না। তবে যতটুকু বলি - বেশি ভালো ও ছিলাম না, আবার,খারাপ ও ছিলাম না। মোটামুটি।

সৎমা কে নিয়ে নাই বা বললাম।  শুধু এইটুকু বলিঃ নতুন অধ্যায়ের দুই/ আড়াই  বছর পর বড় ভাই নিজের জম্ম মাটি/ জম্মভুমি থেকে নিজের ইচ্ছাই চলে গেলেন বিদেশে (মালোশিয়া)। বিদেশ গিয়ে যথষ্ট পরিমাণে আমাদের জন্য পরিবারের জন্য টাকা পয়সা পাঠাতেন ও সব সময় খেয়াল রাখতেন।

মায়ের মৃত্যুর পর আমার পড়ালেখা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। বাবার অনুরোধে আমি প্রায় ৩ বছর পর H S C পরীক্ষা দিয়ে পাশ করি। BBA  ও কম্পিলিট করি। ছোট ভাই অবশ্য ২০০৭ সালে S S C পাশ করেন।

বাবা, বালিয়াকান্দি বাজারে দোকানদারি ব্যবসার সুবাধে, বাবার সাথে ব্যবসার দেখাশুনা করি আমি আর ছোট ভাই। বাবা আমাদের ৩ ভাইকে অনেক আদর ও ভালোবাসতেন। ২০০৯ সালে আমাদের প্রিয় বাবার মরণব্যাধি ক্যান্সার ধরা পরে। জীবনে যেন আর শান্তি নেই। ফরিদপুর বিভিন্ন হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি, ছুটাছুটি। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। ক্যান্সার ধরা পর ২/৩ মাস পরে, বাবা ও চলে গেলেন না ফেরার দেশে।সেই থেকে নিজেকে খুব এতিম অসহায় অনুভব করি। পুরো দায়িত্ব যেন নিজের কাঁধে চলে এলো।

বাবার ব্যবসা বানিজ্য আমরা ছোট দুই ভাই খুব সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে চলছে। খুব সুন্দর চলছিলো আমাদের সংসার।

বাবার মৃত্যুর ২ বছর পর বড় ভাই বিদেশ থেকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে চলে এলেন। ভাই বাড়িতে এলেই সৎমা প্রস্তাব দেন তিনি আমাদের সংসার থেকে নিজের ইচ্ছাই অব্যহতি নিবেন। এবং নতুন করে জীবন গড়বেন। উনার ইচ্ছায় শেষ পযন্ত পুণ্য করলেন। চলে গেলে আমাদের পরিবার সংসার ছেরে।

বড় ভাইয়ের ও বিদেশ যাওয়ার ছুটি প্রায় শেষের দিকে। সে এখনো বিয়ে সাদি করে নাই। বাড়ীতে রান্না বান্নার অনেক ঝামেলা চলছে। কোন দিন নিজেরা রান্না পাকায় খায়, আবার রেস্টুরেন্টে চলে খাওয়া।বড় ভাই আর আত্নীয়রা সিধান্ত নিলো আমাকেই বিয়ে করাবে। আমার বিয়ের ১৫ দিন পরেই ভাই চলে গেলে বিদেশ।

🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
২০১১ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। আমার স্ত্রী ব্যাক্তিগত ভাবে আমার আত্নীয় স্বজনের সাথে তার ভালো সম্পর্ক এবং তিনি সকলকে ম্যানেজ করে ১২ বছর অতিবাহিত করেছেন এবং আজও তা চলমান।আলহামদুলিল্লাহ। সকলের নিকট দোয়া প্রাথী।এভাবেই যেন তিনি তার বাকী জীবন অব্যাহত রাখতে পারে।

আমার দুই ছেলে সন্তান।বড় ছেলে মোহাম্মদ জিহান।
৯ বছর  বয়স বালিয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২য় শ্রেণীতে পড়ে।  আর ছোট ছেলে মোহাম্মদ সেজান ৪ বছর বয়স। ইচ্ছা আছে কুরআনের হাফিজে পড়াতে। আমি আমার সন্তানদের জন্য সকলের নিকট দোয়া কামনা করছি। মহান আল্লাহ পাক যেন আমার সন্তানদের কুরআন হাদিসের আলোকে জীবন গরার তৌফিক দান করেন। আমিন।

দুই বছর পরে বড় ভাই আবার দেশে চলে এলেন একেবারে জন্য। এসে বিয়ে সাধি করে সংসার পাতলেন।

এবার হঠাৎ করে ছোট ভাই এবং ফ্যামিলিগত সিধান্ত নিলো, ছোট ভাই বিদেশে যাবেন।এই ছোট ভাই বিদেশ যাওয়াকে কেন্দ্র করে দালালের খপ্পরে পরে ১২ লাক্ষ টাকা শেষ হয়ে যায় আমাদের। যদি ও ছোট ভাই বিদেশ গেলো শেষ পর্যন্ত।

এবার আসি বড় ভাই এর কথা। বড় ভাই নতুন একটা বিজনেস করতে গিয়ে ৮ লক্ষ টাকা লস খেলো। সবমিলে আমার ২০ লক্ষ টাকা শেষ। সবকিছু মিলিয়ে আমার কাছে আছে জিরো টাকা। মানে 0000 (জিরো) টাকা। তার মানে কোন টাকা পয়সা কিছুই নেই। এমনকি বাজার থেকে বাসায় যাওয়ার সময়, দুই ছেলে বাবুর জন্য ১০ টাকার মজা কিনার টাকাও ছিলো না। এমন সময় ও পার করেছি আমি। হারে জীবন.....

টাকা পয়সা শেষ হয়ে নিজেকে খুব হতাশে ভুগছি। কি করি, কি করবো,কিছুতেই কিছুই খুঁজে পারছিনা। ভাবছি আবার কিছু একটা শুরু করবো।কিন্তু কিছুইতে কিছু হচ্ছে না। নেট / ইউটিউব খাটাখাটি শুরু করলাম ব্যবসা বানিজ্য নিয়ে। হঠাৎ

হঠাৎ ইউটিউব দেখি জনাব" ইকবাল বাহার জাহিদ "স্যারের ব্যবসায়ীক আলোচনা। স্বপ্ন দেখুন, সাহস করুন,শুরু করুন এবং লেগে থাকুন সাফল্য আসবেই...এই জাতীয় আলোচনা। দেখেই এতোই ভালো লাগলো।তারপর ওনার নাম দিয়ে সাচ্ করে করে ইউটিউবের সমস্ত ভিডিও ফলো করি। ঐখান থেকেই "নিজের বলার মতো একটা গল্প " ফাউন্ডেশনে আশা আমার।


আমি ফাউন্ডেশনে ১২ তম ব্যাচে রেজিষ্ট্রেশন করি। রেজিষ্ট্রেশনের জন্য সহযোগিতা করেন কেরানীগঞ্জ জোন এম্বাসেডর" রুনা আহমেদ" আপা। আমি "রুনা আহমেদ "আপার প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা। আল্লাহ "রুনা আহমেদ "আপার মনের আশা পুরন করুক এই দোয়া সব সময়। 

গ্রুপের থেকে স্যারের সেশন থেকে এককথায় "নিজের বলার মতো একটা গল্প " ফাউন্ডেশনের থেকে  শিক্ষা নিয়ে আবার শুরু করেছি। শুরু আর সাহস নিয়ে কিছুটা আশার আলো দেখতে পাই।

এখন সবকিছু মিলিয়ে - দোকান / অফলাইন / অনলাইনে প্রতি মাসে ৪ লক্ষ টাকা( +) সেল। আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ।

ছোট ভাই এখনো বিদেশে অবস্থানে আছে। যথেষ্ট পরিমাণে ফ্যামিলিকে সাপোর্ট দিচ্ছেন। বড় ভাই ও নিজে বর্তমানে অনেক ভালো আছেন। এখন সবকিছু মিলিয়ে আলহামদুলিল্লাহ। অনেক ভালো আছি।

"নিজের বলার মতো একটা গল্প "প্লাটফর্ম থেকে যা শিখছি ঃ

➡️ভালো মানুষ হতে হবে।

➡️হতাশ হওয়া যাবে না।

➡️প্রত্যেকটা কাজ ধৈর্য্য নিয়ে করতে হবে।

➡️উদ্দোক্তা হওয়া স্বপ্ন দেখা।

➡️অনেক গুলো ভালো মানুষের পরিবার পেলাম।

➡️এই পরিবারের প্রত্যেক ভাই ও বোন খুব আন্তরিক।

➡️মা-বাবা  জন্য দোয়া করা।

➡️অন্যর জন্য কিছু করা।

➡️ভালো কাজের প্রতিযোগিতা করা।

আমার জীবনের গল্প লিখতে খুঁজে পেলাম "নিজের বলার মতো একটা গল্প " ফাউন্ডেশন। আমি  জনাব "ইকবাল বাহার জাহিদ" স্যারের প্রতিটি কথা বুকে ধারণ করে চলছি।সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

যারা ধৈর্য্য সহকারে আমার এই লেখাটি সম্পূর্ণ পড়েছেন। তাদের প্রতি আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে সাধুবাদ, মোবারক বাদ আন্তরিক ভালোবাসা ও অসংখ্য ধন্যবাদ রইল। সেই সাথে সকল ভাই ও বোনেদের সুস্থতা কামনা করছি। সুস্থতার কোন বিকল্প নেই।

                               

📌"স্ট্যাটাস অব দ্যা ডে"- ৬৭৭
Date:- ১৮/১১/২০২১ ইং
মোঃ সোহাগ
ব্যাচঃ 12
রেজিঃ 45935
ব্লাডঃ এ +
জেলাঃ রাজবাড়ী
মোবাঃ 01714744060

ফরিদপুর জেলা টিম কর্তৃক আয়োজিত বৃক্ষরোপন কর্মসূচি -২০২৪

ইনশাআল্লাহ ফরিদপুর জেলার বাকি ৮টি উপজেলায় এই কর্মসূচি চলমান থাকবে। অনেক বেশি ধন্যবাদ Iqbal Bahar Zahid স্যার কে ॥

পর্দাশীল ঘরোয়া নারী- সফল উদ্যোক্তা

আমি রান্নাটা ভালো পারি, রান্নাটা নিয়েই পেজ খুলি অনলাইনে কাজ করি। প্রথম অর্ডার আসছিল পিৎজা ডেলিভারির। আলহামদুলিল্লাহ তারপর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ।