ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতাম একজন সফল উদ্যোক্তা হব। ছোটবেলা থেকে গ্রামেই বড় হওয়া তাই নিজ গ্রাম থেকেই অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়েছে। আপনারা জানেন গ্রামের মানুষের ৮০ ভাগ ইনকাম আসে কৃষি কাজ থাকে। আমার পরিবারও ঠিক তাই ছিল ধানের জমি, গোয়ালের গরু, পুকুরে মাছ এগুলো দেখেই বড় হয়েছি। আমি যখন ক্লাস ৮/৯ এ পড়ি তখন থেকেই আলাদা করে একটি গরু & পুকুরে কিছু মাছ দিয়ে নিজের তত্ত্বাবধানেই পরিচালনা করা শুরু করি উদ্যোক্তা জীবনের প্রথম ধাপ এভাবেই ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত চলতে থাকে, অল্প পুঁজি, পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা ইত্যাদি কারণে ভাল করা সম্ভব হয়নি।
ইন্টারমিডিয়েট শেষ করেই চলে আসি ঢাকায় একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি তে Apparel Manufacturing & Technology যেটাকে আমরা গার্মেন্টসে মার্চেন্ডাইজিং বলি। এই সাবজেক্টে শুরু হয় আমার বিএসসি অনার্স। পড়াশোনা যেহেতু গার্মেন্টস লাইনে শুরু হয় তখন থেকেই গার্মেন্টস আইটেম নিয়ে কাজ করার নতুন ইচ্ছা শুরু হয়। বিভিন্ন জায়গায় সোর্সিং করে মধুপুরে আমাদের মার্কেটে পরিত্যক্ত লিফটের স্পেস সংস্কার করে মাত্র ২০ হাজার টাকা মূলধন নিয়ে বঙ্গ বাজার থেকে কিছু টি-শার্ট & অল্প কিছু পলো শার্ট নিয়ে শুরু হয় আমার টাইগার ফ্যাশন এর আনুষ্ঠানিক উদ্যোক্তা জীবন।
এই শুরুটা ছিল পরিবারের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে কারণ পড়াশোনার পাশাপাশি কিছু করতে গেলে পড়ালেখার ক্ষতি হবে। তাই তাদের ইচ্ছে ছিল পড়াশোনা টা যেন ভালোভাবে শেষ করি। এইভাবে চলতে থাকে ৫/৬ বছর। পড়াশোনা শেষ করে পরিবারের ইচ্ছা ভালো একটি জব করতে হবে। এর মধ্যে আমার ছোট শোরুমটি মোটামুটি প্রচার-প্রসার হয়ে একটি পর্যায়ে চলে এসেছে। তার পরেও পরিবারের চাপে গার্মেন্টসে এসিস্ট্যান্ট মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কাজে যোগ দেই।আমার অফিস টাইম ছিল সকাল ৮ টা থেকে রাত্রি ৮/৯ টা পর্যন্ত এবং শুক্রবার গুলোতেও কাজ করতে হত। লম্বা টাইম অফিস করেও শোরুমের ফলোআপ করা এবং প্রডাক্ট কালেকশন করা খুবই কঠিন। এর মধ্যে ২০১৮ সালের মার্চ অথবা এপ্রিল মাসে আমাদের #নিজের_বলার_মতো_একটা_গল্প_ফাউন্ডেশন এর প্রথম উদ্যোক্তা সম্মেলন এর একটি ভিডিও আমার চোখে পড়ে এবং সেখান থেকেই ফলো করা শুরু হয় এই গ্রুপটিকে। ২য় ব্যাচ থেকে রেগুলার যুক্ত থাকি এই গ্রুপে।আমাদের প্রিয় স্যার জনাব #ইকবাল_বাহার_জাহিদ স্যারের টানা ৯০ দিনের সেশন শেষ করে নিজের ভেতরে একটি সাহস তৈরি হয়।এক পর্যায়ে চাকরি ছেড়ে দিয়ে ফুলটাইম সময় দেওয়া শুরু করি আমার বিজনেসে। আমার বড় আপু থেকে কিছু মূলধন নিয়ে বড় পরিশরে শুরু হয় টাইগার ফ্যাশনের যাত্রা। প্রিয় ইকবাল বাহার জাহিদ স্যার বলেছিলেন ব্যাতিক্রম কিছু হতে পারে জীবনের সফলতা। এই আইডিয়া নিয়ে ২০২০ সালে শুরু করি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত টাইগার জেন্টস সেলুন ও টাইগার শেরওয়ানি হাউস। বিয়ের শেরওয়ানি ভাড়া ও আধুনিক সেলুন সেবার একটু ব্যতিক্রম কিছু সার্ভিস চালু হয় মধুপুর উপজেলায় যা আমিই প্রথম। ব্যাক্তিক্রম ও ভাল সার্ভিস হওয়ায় কাস্টমারের রেসপন্স অনেক বেড়ে যায়। এর মধ্যে ব্যাংকের সহযোগিতা নিয়ে টাইগার এগ্রো ফার্মের যাত্রা শুরু করি। কিছুদিন পর ২ টি গাড়ী নিয়ে যাত্রা শুরু হয় টাইগার ট্রান্সপোর্ট এভাবেই সেই ছোট টাইগার ফ্যাশন আজ ৯ জন সহকর্মী নিয়ে গড়ে উঠেছে টাইগার মাল্টি কোম্পানি। আগামী বছর থেকে পার্টনারশিপে শুরু হবে নগর প্রোপার্টিজ লিঃ এর যাত্রা যা মধুপুর উপজেলায় হবে একমাত্র আধুনিক শহর।
📌"স্ট্যাটাস অব দ্যা ডে"- ৬৯৪
Date:- ০৮/১২/২০২১ইং
খঃ ইশতিয়াক আহমেদ সজীব।
ফাউন্ডারঃ Tiger Multi Company
২য় ব্যাচ/ ৯২১৯
মধুপুর, টাংগাইল।
ইনশাআল্লাহ ফরিদপুর জেলার বাকি ৮টি উপজেলায় এই কর্মসূচি চলমান থাকবে। অনেক বেশি ধন্যবাদ Iqbal Bahar Zahid স্যার কে ॥
আমি রান্নাটা ভালো পারি, রান্নাটা নিয়েই পেজ খুলি অনলাইনে কাজ করি। প্রথম অর্ডার আসছিল পিৎজা ডেলিভারির। আলহামদুলিল্লাহ তারপর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ।