আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন প্রথম জীবনে ছিলেন কাঠুরিয়া। অসামান্য মেধা ও কর্তব্যপরায়ণতা তাকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে উন্নীত করে। মার্কিনিদের মতে, লিংকন শুধু প্রেসিডেন্টই নন; এক আদর্শেরও নাম। আমেরিকায় বহু প্রেসিডেন্ট দেশ শাসন করেছেন ও করবেন। কিন্তু তাদের কেউই লিংকনকে কখনো অতিক্রম করতে পারবেন না। ঠিক তেমনি আমরা যখন দাপে দাপে সিড়ি বেয়ে উপরেরদিকে উঠতে শুরু তখন আমাদের আর পিছনে পিরে তাকাতে হবেনা এবং আমাদেরও অতিক্রম করতে পারবেনা। অতিক্রম করতে হলে আমাদেরকে লিংকনের মতো হতে হবে।
এ দেশেরই আরেক প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট ছিলেন পঙ্গু। দেশের অর্থনীতি যখন বিধ্বস্ত, সে অবস্থায় তিনি হাল ধরেন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে মিত্রশক্তির পক্ষে আমেরিকার যোগদান যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শারীরিকভাবে অক্ষম হলেও প্রবল ইচ্ছাশক্তি রুজভেল্টকে একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তুলে ধরে। তেমনি আমাদের ইচ্ছা শক্তি সফল হওয়ার একমাত্র চাবিকাঠি।
মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে বড় হয়েছি এই বিপ্লবী আমি। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার দিক থেকেও পিছিয়ে আমি। স্কুল পর্যন্ত পড়াশোনা করেই আমাকে ক্ষান্ত হতে হয়েছে। কিন্তু সমাজে সবার চাইতে সৎ এবং ভালো মানুষের কৃতিত্ব আমার কথা সমালোচকরাও স্বীকার করেন। কখনো কারও সাথে অজথা জগড়া করি নাই কাউকে গালি দি নাই কারও সাথে কখনো মাথা উচু করে কথা বলিনাই আমার এই শ্রেষ্ঠত্ব পৈতৃক পরিচয়ের সূত্রে আসেনি। অর্জিত হয়েছে নিজের কৃতিত্ব ও অধ্যবসায়ের গুণে।
অর্থাভাবে এসএসসি এর বেশি পড়াশোনা করতে পারেনি। কর্মজীবনের শুরুতে একটা ছোটো মাল্টিপারপাস কোম্পানিতে চাকরি ২০০৭ সালে তাও ১৫০০ টাকা স্যালারী।কিন্তু অংকে পরবর্তীকালে ওই জব চেরে দেওয়া তারপর আর একটা এইভাবে দুই তিন্টা কর্মজীবন আমার জীবনে। এখানেই থেমে যায়নি আমার অগ্রযাত্রা। পরবর্তিতে একটা সরকারী চাকরী হয় আমার।
তারপরও থেমে নেই আমার চেষ্টা অব্যহতো রয়েছে।
কিন্তু এ আভিজাত্যহীনতা আপন প্রতিভাকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে একমাত্র নিজের বলার মতো গল্প। দুনিয়ার দেশে দেশে বাংলাদেশের বেকার, চাকরীহিন এবং স্বল্প বেতনে চাকরীজিবিদের কাছে প্রাতঃস্মরণীয় নাম নিজের বলার মতো গল্প।
উদ্দ্যেক্তা হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। কারণ যারা বেকার তাদের যেমন যন্ত্রণার শেষ নেই ঠিক তেমনি যাদের স্বল্প বেতনের চাকরী তাদের যন্ত্রণা আরো বেশি। তাই মানশিক প্রশান্তির একমাত্র চাবিকাঠি উদ্দ্যেক্তা হওয়া। আর এই উদ্দ্যেক্তা তৈরীর পিছনে যার অক্লান্ত পরিশ্রম তিনিই একমাত্র আমাদের প্রিয়ো মেন্টর ইকবাল বাহার জাহিদ স্যার।