See More Post

ফাউন্ডেশনের ছায়ায় বদলে যাবার গল্প

❤️❤️আমার গল্পের মহানায়ক নিজের বলার মত একটা গল্প ফাউন্ডেশন। গত সাত মাসে ফাউন্ডেশনের সাথে থেকে, জনাব ইকবাল বাহার জাহিদ স্যারের শিক্ষা নিজের মধ্যে যতটুকু ধারণ করেছি তা থেকে নিজেকে পাল্টে ফেলার গল্প। ❤️❤️


💕নিত্যনতুন নতুন নতুন

💕 ভিন্ন ভিন্ন স্বপ্ন বুনি,

 💕অন্তরে আর গতানুগতিক নয়।

 💕ভিন্নতা নিয়ে চলি।


💢শখ আর স্বপ্ন দূরে সরে যায়, শৃঙ্খলতায় অবরুদ্ধ হয় হৃদয়। কর্মহীন জীবনে যখন ওষ্ঠাগত প্রান, তখন সমস্ত সীমাবদ্ধতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, শৃঙ্খতায় বেড়ি ছিড়ে, সমস্ত কটুক্তিকে মাড়িয়ে বেড়িয়ে আসা এক মারিয়ার ক্ষুদ্র প্রয়াস। যে প্রয়াসের সাহস যুগিয়েছে নিজের বলার মতো একটা গল্প ফাউন্ডেশন। ১৩ তম ব্যাচে যুক্ত হয়ে আজ প্রর্যন্ত  লেগে থেকে নিজের জীবনের যে পরিবর্তন টুকু এসেছে সেটুকুই ভাগ করে নিতে এসেছি প্রিয় ভাই বোনদের সাথে। এর আগে কোনদিনই আমি, উদ্দোক্তা বা ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার সাহস তো অনেক পরের কথা মনে মনে ভাবিওনি। 


💢চাপা শান্ত স্বভাবের একটি মেয়ের মনস্তাত্ত্বিক জগতকে বদলে দিতে সক্ষম হয়েছে এক যাদুকর। না সে ছন্দের যাদুকর সতেন্দ্রনাথ দত্ত কিংবা দেশ সেরা যাদুশিল্পি  জুয়েল আইচ নয়। এই যাদু করের যাদু কাঠি নেই, কি বোর্ডের ওপর আঙলের ছোয়ায়, এই যাদুকর লাখো তরুনের দিবা স্বপ্নেরযাদুকর। যে তার সম্মোহনী যাদুতে দেশের ৬৪ জেলার এবং দেশের বাইরের ৫০ টি দেশের প্রবাসী ভাই বোনদের পাগল করে তুলেছে কাজের নেশায়, নিজের দেবার মত একটা  পরিচয়ের নেশায়, নিজের বলার মতো একটা গল্পের নেশায়। জনাব ইকবাল বাহার জাহিদ স্যারের সেই যাদুর ছোঁয়া আইসি ইউয়ের বেড ছাড়িয়ে, ইট, কংক্রিটের বড় বড় দালান, উঁচু উঁচু দেয়াল মাড়িয়ে পৌছে গেছে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষা এক ছোট্ট  রূপবতী, রুপের ললনা সৈকত সৌন্দর্যের বরগুনা জেলার ছোট্ট এক কুটিরে। যেখানে হতাশায় ডুবে ছিল একটি মেয়ে। যে আগের কাজটি হারিয়ে তীর্থের কাকের মত বসে ছিল।  সে যানত না কিভাবে ভাগ্য বদলাবে। কিভাবে পরিবর্তন আসবে। তখনই এই ফাউন্ডেশনের সাথে যুক্ত হওয়া। প্রিয় মেন্টরের শিক্ষা, প্রিয় ভাই বোন গুলোর অনুপ্রেরণায় একটু একটু করে আশার আলো দেখা। এর পর কেটে গেছে  মাত্র সাতাটি মাস। সেই মেয়েটির হৃদয় এখন স্বপ্ন পুরনের নেশায় স্ফুলিঙ্গের ন্যায়।


💦💦 যে হৃদয় ছিল শান্ত দীঘির জল। 

সে জলে এখন আগুন জ্বলে।💥💥


💢সেই মেয়েটি আমি, এখন পুরো দস্তুর রংমিস্ত্রি, ঘরে বসে ফেলনা সুপারি খোল দিয়ে ওয়ালমেট তৈরি করছি, রাত জেগে সুপারি পাতার প্লেটে রঙ তুলির  নকশা দিচ্ছি, কখন রাত পেড়িয়ে ভোর হয়ে যায় টের পাইনা। আমার কাছে রয়েছে বাহারি রঙ বেরঙের সুপারি পাতার খোলের ওয়ালমেট। যা ঘরকে দেবে নান্দনিকতার ছোঁয়া। 


💢সেই মেয়েটি আমি, যে মায়ের সেলাইয়ের কাজের বর্তমান সেনাপতি। সেলোয়ার-কামিজ, ফ্রক, প্যান্ট  নিমা সহ মেয়েদের পোশাক তৈরির দক্ষ হেল্পার 😄 কারিগর মা ই আছেন। মা মেয়েতে চলে যাচ্ছে বেশ। যাকে বলে দর্জি। হ্যাঁ ভাই আমি দর্জির কাজ করি। বেচেঁ যাওয়া টুকরো কাপড় দিয়ে, মাক্স, বেবি হেয়ার ব্যান্ট, কুরআন শরীফের কভার বানিয়ে কাস্টমার কে গিফট করি, রুমাল কখনো তো আবার হাতা ( গরম পাতিল ধরার কাপড়)  বানিয়েও গিফট করি। আমার যা ইচ্ছে তাই করি। আমার রাজ্যে আমিই রাজা👑👑  নেই কোন জবাবধিহিতা। 


💢হ্যাঁ সেই মেয়েটি আমি, আমি এখন শাড়িওয়ালি, আমি ফেরিওয়ালি।  আমি সিল্ক, জামধানি, বেনারসি, কাতান, ধুপিয়ান, টাঙ্গাইল  হাফ সিল্ক, সুতী প্রিন্টেড , বুটিক শাড়ি বিক্রি করি। তাই আমি শাড়ি ওয়ালি। আবার অর্ডার পেলে সেই শাড়ি আমি কুরিয়ারে কিংবা কাস্টমারের বাড়িতে নিজেই দিয়ে আসি তাই আমি ফেরিওয়ালি। 

 

💢আমি নিত্যনতুন স্বপ্ন বুনি, আমি শৃঙ্খলকে মাড়িয়ে চলি, আমি চলার পথে শুনতে পাই কেমন মেয়ে, পড়ালেখা করে এখন লতা পাতায় ছবি আকেঁ, এসব করে কি হবে? শাড়ি থ্রি পিছ বিক্রি করে কেন? টাকার প্রয়োজন থাকলে টিউশনি বা জব করতে পারত।  এর দায়িত্ব নেবার কেউ নেই? এর পরিবারের লোকেরা কি করে ইত্যাদি ইত্যাদি। 


💢এসব কথাকে আমি পায়ে পিষে এসেছি, এসব এখন আমাকে দমাতে পারবেনা। আমাকে থামাতে পারবে না। আমি থামব না। আমি ততদিন থামব না যত দিন না আমার দেবার মত পরিচয় তৈরি হয়। আমি তত দিন থামবোনা যতদিন না আমার নিজের বলার মতো একটা গল্প তৈরি হয়। যে যাদু আমায় সম্মোহিত করেছে সেই স্বপ্ন পূরণ না করে আমি আমি থামব না। সেই উদ্দেশ্য সফল না হওয়া প্রর্যন্ত আমি হারব না। আমি নিজের কর্ম সংস্থানের জন্য নিজের প্রতিষ্ঠান, নিজের সেই স্বপ্নের জগৎ  Maria's  World  তৈরি করেছি। 


💕সেখানের আমিই মালিক, 

💕আমিই কর্মি, 

💕আমিই সেলস ম্যান,

💕আমিই ক্যাশ অফিসার, 

💕আমিই ডেলিভারি ম্যান।

💕আমিই ঝাড়ুদার। 


                    💢 আমার স্বপ্ন 💢


ভবিষ্যতে এই প্রতিষ্ঠানটিকে ইকবাল বাহার জাহিদ স্যারের শেখানো বিদ্যায় নিয়ে যাব অনন্য উচ্চতায়। যেখানে অনেক লোক কাজ করবে, অনেক পরিবারের কর্মসংস্থান হবে৷ বেকারত্ব ঘুচবে বদলে যাবে দিন। অনেক মারিয়ারা স্বপ্ন পুরন করবে৷ স্বপ্ন তো বড়ই দেখতে হয়। বড় স্বপ্ন দেখার সাহস তো প্রিয় ফাউন্ডেশনের এসেই দেখেছি। সফলতা তো কেবল চেষ্টা আর ভাগ্যের ব্যাপার। চেষ্টা করে যাব, আল্লাহ সৎ কর্মের সহায় হবেন ইনশাআল্লাহ। 


✍️পরিশেষে সকলকে ধন্যবাদ জানাই সময় নিয়ে  আমার লেখাটি পড়ার জন্য। লিখতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে গিয়েছি৷ লেখার মধ্যে কোন ভুল ত্রুটি হলে আপনাদের এই বোনটিকে ক্ষমা করে দেবেন। 🙏🙏



📌"স্ট্যাটাস অব দ্যা ডে"- ৬০৩

Date:- ২২/০৮/২০২১

মারিয়া আক্তার 

একজন গর্বিত সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবী  

ব্যাচঃ১৩ 

রেজিঃ ৫৭৫৩১

জেলাঃ বরগুনা 

উপজেলাঃ পাথরঘাটা 

পেইজ লিংকঃ ⬇️ https://www.facebook.com/mariasfashion.food/

ফরিদপুর জেলা টিম কর্তৃক আয়োজিত বৃক্ষরোপন কর্মসূচি -২০২৪

ইনশাআল্লাহ ফরিদপুর জেলার বাকি ৮টি উপজেলায় এই কর্মসূচি চলমান থাকবে। অনেক বেশি ধন্যবাদ Iqbal Bahar Zahid স্যার কে ॥

পর্দাশীল ঘরোয়া নারী- সফল উদ্যোক্তা

আমি রান্নাটা ভালো পারি, রান্নাটা নিয়েই পেজ খুলি অনলাইনে কাজ করি। প্রথম অর্ডার আসছিল পিৎজা ডেলিভারির। আলহামদুলিল্লাহ তারপর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ।