See More Post

ওমান এসেছি ১৭ বৎসর

🌺🌻বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। 💐🌺🌻

আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমি ও ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ। 

🤲শুরুতে মহান রাব্বুল  আলামিনের নিকট সীমাহীন শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি এত সুন্দর পৃথিবীর বুকে সুস্থ রেখে তার সমস্ত নেয়ামত ভোগ করার তৌফিক দান করেছেন।

🌷গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সহিত স্বরন করছি প্রিয় মেন্টর,  প্রিয় শিক্ষক, ভালোমানুষ গড়ার কারিগর জীবন্ত কিংবদন্তি ও শতাব্দীর সেরা আবিষ্কারক আমাদের নয়নের মণি আমাদের সকলের প্রিয় শিক্ষক যার চিন্তা ভাবনা এই সপ্নের প্লাটফর্মকে ঘিরে। যিনি সব সময় যুক্তিময় উক্তি দিয়ে আমাদের অনুপ্রানিত করেন। তিনি হলেন আমাদের প্রিয় জনাব ইকবাল বাহার জাহিদ স্যার।প্রিয় স্যারের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি   যার পরিশ্রম  একাগ্রতা , সততা ও নিষ্টার ফসল হিসেবে আমরা পেয়েছি নিজের বলার মত গল্প ফাউন্ডেশনের মতো একটা মানবিক প্ল্যাটফর্ম। 

তাই আমি আমার নিজের জীবন গল্প বলার সাহস পেয়েছি। 

🍂আমাদের প্রত্যেকের জীবনে গল্প থাকে তেমনি আমার জীবনের কিছু টা স্মৃতির গল্প শোনাতে আসছি। 

প্রতিটি সন্তানের কাছে মা ও 

বাবা 

শ্রেষ্ট।আমার কাছেও আমার 

আম্মা ও আব্বা শ্রেষ্ঠ এবং  নয়নের মনি এখনো অব্দি। সবাই দোয়া করবেন তারা যেন সুস্থতার সহিত থাকতে পারে।

👩‍🦰আমার পরিচয় 

আমি আনজুমান আরা বেগম। আমার শৈশব কৈশর বসবাস নিজ জেলা চট্টগ্রামে,উপজেলা বোয়াল খালী,থানা বোয়াল খালী।

আমরা দুই ভাই, দুই বোন।  আমি সবার বড়। আমার  আব্বা ছিলেন একজন প্রবাসী। 

আমাদের যৌথ পরিবার ছিল। 

পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ২৫/২৬ জনের মতো। 

🌴এবার আমার আব্বার  পরিচয়। এরা ছয় ভাই দুই বোন। আমার আব্বা মেঝ। আমাদের পরিবারে দাদু ভাইকে আমি দেখি নাই, দাদুমনিও দুনিয়াতে নেই। পরকালের বাসিন্দা, আল্লাহ উনাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের মাকাম দান করুক। সবাই দোয়া করবেন আমার দাদু ভাই ও দাদু মনির জন্য। 

🍃আমার দাদুভাই নাকি  অনেক মেজাজি  ছিলেন।আমি দেখি নাই আমার আম্মা ও চাচারা বলতেন ওদের থেকে  শুনতাম। তবে সবাই বলত আমার আম্মাকে দাদু ভাই অনেক বেশি পছন্দ করত।পরে দাদু ভাই চোখে কম দেখত।আমার আম্মা সেবাযত্ন করতেন। আমার বয়স২বা ৩ বছর হবে তখন আমার বড় ফুফি মারা যায়। আমি দেখি নাই শুনেছি আম্মার কাছ থেকে। ফুফির ছিল ৪মেয়ে ২ ছেলে। এদেরকে আমাদের পরিবারকে দেখতে হতো।কারন এরা ছোট থাকার কারনে এদের বাবা আরেক টা বিয়ে করে।মানে আমার ফুফা।ঐ ঘরেও সন্তান হয়েছে। উনি মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। পারিবারিক টানাপোড়নের কারনে  ফুফাতো ভাই বোন ৩ জন আমাদের সাথে থাকত তাই বেশীর ভাগ সময় আমাদের অনেক আনন্দে কাটত।  ছোট ছিলাম একসাথে পরিবারে অনেক গুলো মানুষ একসাথে বসবাস। তবে শাসন ছিলো বেশি। তবে আমার বড় জেটার মেয়ে ছেলে ৪জন। ২জন বড় ১জন আমার সাথে পড়া লেখা করত আরেকজন এর ২

বছরের ছোট।আমরা একই পরিবারে বেড়ে ওঠা।তবে আমার জেঠাতো বোনটা খুব চঞ্চল ছিল।আর আমি ছিলাম শান্ত স্বভাবের।কিন্তু আমরা দুই জন সহপাঠীদের সাথে হাডুডু এবং দরিলাপ  খেলার জন্য ঘরে না বলে বের হয়ে যেতাম। দুপুরে সবাই ঘুমাত। আমরা দুই জন বিছানার মধ্যে বালিশ লম্বা করে কাঁথা দিয়ে ঢেকে বের হয়ে যেতাম।

🍂🌱যে দিন টাইমের ভিতর আসতে পারতাম না সেইদিন খেলার সময় যদি চাচারা কেউ দেখে পেলে সেদিন আর শেষ রক্ষা হতো না।বুঝতে পারছেন তো আপনারা?না বুঝেন নাই?  আর কি, পিঠে লাঠি পেঠা। আরেকটা বদ অভ্যাস ছিল পুকুরে লাফ দেওয়া। এটার জন্য বেশি লাঠি পিটা খেতে হয়েছে আমাকে।এটা আমার নেশা ছিল। 

🌿ছোট বেলার আরেক দিনের উল্লেখযোগ্য স্মৃতিময় ঘটনা আমি তখন তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ি। আমার আরেক  চাচাতো বোন আমাকে বলে চল আমার সাথে। আমি একা আমার নানির বাড়ি যাচ্ছি আবার চলে আসব। স্কুল থেকে চলে গেলাম। আমিও বলার সাথে সাথে চলে গেলাম। অনেক দূর প্রায় ৪ কি ৫ মাইলের কাছাকাছি। আমি ছোট আর  আপু ছিল বড়। আমি হাটতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে গেছি।  ঐখানে পৌছে খানা খাওয়ার পর কিছু সময় ছিলাম, এরি মধ্যে স্কুল টাইমিং শেষ। 

আমি  কাউকে না বলে চলে গিয়েছিলাম। এদিকে বাড়িতে অবস্থা খারাপ। আমি কিছুই জানি না। আমার আম্মাতো কান্নাকাটি করে বেহাল অবস্থা 😪😪।

🌿পুরো বাড়িতে আশেপাশে সব ঘরে ঘরে খুঁজাখুঁজি শেষ। এখন কি করা যায় বাড়ীর লোকে লোকারণ্য সবাই বলে পুকুরে ডুবে গেল নাকি! কারন আমি না বলে কোথাও যেতাম না।পুকুরে জাল দিয়ে দেখলেন কোন খবর  নাই। তারপর পুরো পাড়ায় কথাটা ছড়িয়ে পড়ে, ঐখানে যাওয়ার সময় একটা দোকান দার   আমাদের দেখেছিলেন। তখন আমার বাড়ীর পাশের এক চাচা বলতে শুনে, আমি ঐখানে আপুর সাথে যাচিছ। চাচার আর বুঝতে বাকি রইলো না। উনি ঐখানে গিয়ে আমাকে  কোলে করে নিয়ে আসে। আমি এসে দেখি আমাদের ঘরে উঠানে মানুষ আর মানুষ। আমার আম্মা, দাদুমনিরা কান্না করতেছে। তখন আমাকে কোলে নিয়ে আমার আম্মার  যে আবেগ দেখেছিলাম তা এখনো ভূলতে পারিনি।কারণ আমি আম্মা আব্বার আদরের মেয়ে ছিলাম আমার আগে আমার দুই ভাই বোন মারা যায় সেজন্য আমাকে সব সময় দেখে রাখত। এবার চিন্তা করেন আমার আম্মার ঐ দিনটি কেমন লাগছিল।আমি এখন অনুভব করি! ঐ সময়তো বুঝতাম না।আরও অনেক স্মৃতি হাসি খুশির। আমার আরেকটা চুরির ঘটনা আছে 😀😀😀

🍁আমি আমার পাশের ঘরের দাদাকে দেখতাম উনি ইয়া বড় লম্বা একটা হুককা টানতেন। তো দেখতাম আমাকে খুব আদর করত।ছোট ছিলাম।পাশে বসিয়ে রাখত। দাদুভাই যখন হুক্কা রেখে অন্যদিকে গেলেন আমি দিলাম হুক্কাতে টান। সাথে সাথে বমি আসে তখন দাদু ভাই তারাতারি কোলে নিয়ে মুখ হাত ধুয়ে দিয়ে আমাকে চকলেট বিসকুট খেতে দেয় । ওরাও বড়লোক ছিল। তারপর থেকে আমি মনে করতাম চকলেট দেবে তো দাদুর পাশে বসে থাকতাম। দাদু ওঠে গেলে দিতাম দুই একটা টান। এইছিল আমার চুরি। সাথে আমার এক সহপাঠী ছিল ওর নাতনি ।  একদিনে বলা যাবে না বলতে গেলে অনেক কথা।  তো সময় নষ্ট  না করে এতটুকুতেই থাক। 

✈️এবার আসি আমার আব্বার প্রবাস জীবনে। আমার আব্বা খুব সত্যবাদি মানুষ। উনি মিথ্যা বলেন না এবং শুনতে ও পারেন না।আমার আব্বা লিভার ব্রাদার্স (Unilever) এর চাকরি করতেন ভালো পদে। একদিন একজন লোক ঐখানে অসৎ উপায়ে টাকা কামাই করার প্রস্তাব দেয়। আমার আব্বা সাথে সাথে না করে দেয়। তার মানি ঐখানের কিছু মাল বাহিরে বিক্রি করা। এরপর ঐ লোকটি নিজে এই কাজ করে আমার আব্বা জানতেন না।একদিন চেকিং করতে গিয়ে মালের ঘাটতি  দেখা  দেয়। তখন উনি আব্বার উপর দোষটা দেয়। তখন আব্বা   সিদ্ধান্ত  নেয় চাকরী ছেড়ে দেবে, কিন্তু মালিক আব্বাকে ছাড়বেন না। উনি আব্বাকে অনেক সম্মান করতেন এবং বিশ্বাস করতেন। উনি বললেন  ঘাটতি কোথায় দেখ । আব্বার মনে আসল আমি যদি ঘাটতিটা প্রমাণ করে দিতে পারি তখন আমি  চাকরী ছেড়ে দেব। যেই কথা সেই কাজ ।

অসৎ লোক যে রাস্তা দেখিয়েছেন  ঐদিকে নজর রাখাতে চুরি ধরা পরে আব্বা প্রমাণ করে  দিয়েছেন।দুই কি তিনজন জড়িত ছিল। ওদেরকে বাদ  দিয়ে দেয়। কোম্পানি আব্বাকে ছাড়বে না।তবে আব্বার ইচ্ছে নেই চাকরি করার।  তাই উনি বিদেশে চেষ্টা করেন। এরপর ইরাকে পাড়ি দেন।

এই কথা গুলো আমার আব্বার কাছে শুনা কারন উনি সব সময় সত্য কথা বলেন। মিথ্যা বলবেনা।কারণ সৎ থাকলে  কোনদিন অভাব হবে না।বেশ কয়েক বছর  প্রবাসে কাটানোর  পরে দেশে আসেন। এরপর একটা বড় বাস  নেয় চট্টগ্রাম শহরে।  

যেহেতু আব্বা ড্রাইভিংটা পারে। আরও একজন লোক রাখছে। ভালো যাচ্ছে দিনকাল। আমার আরও এক ভাই একটা বোন। আমরা এখন তিনজন যৌথ পরিবারে। আমরা এখন ও আছি। কয়েক বছর পর আব্বা আবার বিদেশ যাবে। তবে জায়গাটা হচ্ছে ওমান।আমার বয়স ছিল ৭/৮ বছর, ভাইয়ের ৫ বছর, বোনটার ১ বছর। গাড়ীটি নিয়েছিল আব্বা এবং আমার ছোট ভাইয়ের নামে।

কাগজ পত্র আম্মার কাছে ছিল। কিন্তু আব্বা ওমানে যাওয়ার সময় হিসাব নিকাশ দিয়ে যায় আমার ৪ নাম্বার চাচার হাতে।প্রবাসীদের যেটা হয়!তো একদিন  গাড়ির কিছু কাজ করাতে হবে। ডকুমেন্টরী কাজ এই রকম বলে কাগজ পত্র নিয়ে নেয়। তখন ছিল চিঠির আদান প্রদান।  ফোনের প্রচলন   ছিল না। কোনদিনের খবর কোনদিন পাওয়া যেত ঠিক নাই।

তো এভাবে যেতে লাগলো। ঐদিকে আবার প্রবাসের কষ্টে অর্জিত টাকা গুলো পাঠিয়েছেন বড় জেটার কাছে। আমরা ছোটরা মজার মধ্যে ছিলাম। আমার আম্মা আমাদের কষ্ট বুঝতে দেয় নি। যৌথপরিবার হওয়াতে  অনেক কস্ট করেছে আমার আম্মা। যা এখন হারে হারে বুঝতে পারতেছি। আমার আম্মা এখন ও অনেক পরিশ্রমি।

😪এরপর শুরু হল নতুন দিনের নতুন কষ্টের সুচনা। ওমান থেকে আব্বা চলে আসলেন। যখন  গাড়ির হিসাব চাই তখন বলে গাড়ির এক্সিডেন্টে সব খরচ হয়ে গেছে। 

তো আগের টাকা কোথায়। এককথায় জবাব দিল সব গাড়ির দেনা পাওয়ায় চলে গেছে। 

এ দিকে শুনতে পায় গাড়ি বিক্রি করে সব টাকা আমার চাচা নিজের নামে করে নেয়।,😪😪 ভাইকে নিয়ে টিপ নিয়ে অথরাইজ করে নিয়ে নেয়।

এরপর জরুরী বৈঠক  বসে আব্বা ও চাচারা  সব ভাইয়েরা মিলে। আমাদের ছিল বড় মাটির  ঘর। তখন সিদ্ধান্ত  নেয় বিল্ডিং করবে।আব্বাকে বলে তোর এত টাকা দিতে হবে।

আব্বা বলে আমার টাকা তো সব আপনাদের কাছে। বলে  এগুলি পরিবারে খরচ হয়ে গেছে। আব্বা জিজ্ঞেস করে কেমনে এত টাকা খরচ হয়। গাড়ির ইনকামের টাকা  এরপর  আমি   বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা।  আমার টাকা কত আছে? ঐগুলো দাও।কেউ কোন টাকা দিল না।আব্বা জেটার কাছে প্রস্তাব রাখে আমার নামে জায়গা নিছ ঐটার দলিল দাও. আমি জায়গা বিক্রি করে ফেলবো। আমার  টাকা দরকার।চাচা বলে কিসের জায়গা, কিসের দলিল। কেন ঐদিকে জায়গাটা কেনার জন্য টাকা দিয়েছিলাম না? জেটা বলে ঐখানে তোর কোন নাম নেই, জমি নেই।ঐ টাকা দিয়ে কেনা জমিটা  জেটার নামে কিনে। কারন আব্বা বিশ্বাস করেছিলেন। কোন ডকুমেন্ট রাখেন নাই। তাই প্রমান দেখাতে পারে নাই।তাই বেইমানি করে   ভাইয়েরা একজোট হয়ে গেছে!  তখন আমার আব্বার মাথায় আকাশটা যেন ভেঙে পড়ল।আব্বা রাগে বেইমান বলে ঐখান থেকে বের হয়ে যায় ঐ বৈঠক থেকে। ঐদিন চিল্লাচিল্লিতে আমাদের ঘরে যেন  যুদ্ধ চলতেছে। আমরাও শুনতেছি।

🌾 আমার জেঠাতো বোন আর আমি একসাথে ঘুমাতাম। আব্বা ঐখান থেকে ডেকে নিয়ে বলে আমরা একসাথে ঘুমাব।ঐ সময় রমযান 

মাস ছিল। আমরা ঘুমিয়ে পড়ছি।ওঠে দেখি সকাল হয়ে গেছে। আমার আম্মার চোখ দুটো লাল।অনবরত চোখের পানি পরিতেছে।কোরআন শরিফ পাঠ 

করতেছে। আমি যখন জিজ্ঞেস করেছি সেহরি খাওয়ার জন্য ডাকে নাই কেন? আম্মা বলেছেন কালকে থেকে খাবি। আমি আর ও তোর আব্বা পানি খেয়ে রোজা রেখেছি। কারন ঘরে দাদু মনি ছিল উনি ডাকেন নাই। আব্বা মনে অনেক কস্ট পেয়েছে। তাই আব্বা গিয়ে চিরা চিনি এগুলো নিয়ে আসেন। আমরা তিন ভাইবোন মিলে খেয়েছি।এরপর আমার দাদু মনি আমার আরেক বাড়ির বড় জেটাকে ঢেকে আনে পাতিল বাটোয়ারা করার জন্য। তখন আমার আব্বার প্রস্ন আমার এত টাকার কোন হিসাব নেই । আমি দুই টাকার পাতিল দিয়ে কি করব।একটা  জিনিস ও নেন নি।এরপর আমার ছোট মামা নানু বাড়ির থেকে বড় পাতিল করে অনেক গুলো খাবার জিনিস ব্যবহারের জিনিস নিয়ে আসে।এটা আমার জীবনের কষ্টের স্মৃতি। এরপরের দিন থেকে আমার আব্বা ড্রাইভিং করে আমাদের পরিবার চালাত,এরপর অনেক কষ্ট চোখে দেখেছি আম্মা ও আব্বার।এর ভিতর আমাদের লেখা পড়ার খরচ। এরিমধ্যে  সবচাইতে আমাদের কস্ট হতো একটা রুমের মধ্যে ঘুমানো, পড়ালেখা এবং খাবার এক রুমের মধ্যে চলত।এক বছর পর আরেকটা ছোট রুম দিছে। আমরা পড়ালেখা ও থাকতে পারতাম। এই হল প্রবাসীদের সংসার,  কস্ট করে আমার আম্মার হাত খরচের  টাকা জমানো এবং আমার জন্য নেওয়া স্বর্ণের চুড়ি আর কিছু জিনিস ছিল ছোটখাটো ঐ গুলি   বিক্রি করে   দিয়ে একটা দোকান নেই। দোকানটা কিছুদিন করার পর ভাড়া দিয়ে দে। তো পরে মোটামুটি চলে। আরেকটা কথা বলা হয়নি, এরি মধ্যে আমার আরেকটা ভাই জম্মগ্রহন করে।আমরা ৪ ভাই বোনের লেখাপড়ার খরচ  সহ ৬জনের খরচ সবাই আব্বাকে চালাতে হয় অনেক কষ্ট করে। ২৯ শে এপ্রিল ১৯৯১তে ছিল আমার এস এস সি  পরীক্ষার তারিখ ।  ঐদিন শুরু হল প্রাকৃতিক দুর্যোগ।  ২৯ শে এপ্রিল ১৯৯১সালে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে বন্যায় চট্টগ্রামে আমাদের এখানে সবকিছু তছনছ করে দিয়েছে।এটা কাটিয়ে উঠতে অনেক কস্ট হয়েছিল।পরীক্ষা পিছিয়ে গেল।   

😐

১মাস পার হল। আসলো বিয়ের প্রস্তাব। আব্বা না করে দিছে। বলেছেন মেয়ে ছোট। আমাকে পড়া লেখা করাবে। উনি আর কিছু বলেন নাই। তারপর এক সপ্তাহ পর এসে  আবার বলেন অসুবিধা নেই আমাদের পাশে সেই স্কুল-কলেজ মেয়েকে পরীক্ষা দিয়ে কলেজে ভর্তি করে দেবো। পড়াবো আমরা । তারপর ও আব্বা রাজি না। জবাব দেন মেয়ে এখনও ছোট। যিনি বিয়ের  প্রস্তাবটা দেন উনি আমার চাচার বন্ধু ছিলেন আমাদের ঘরে আসা যাওয়া করতো। আমাদের সাথে ভালো সম্পর্ক ছিল। উনি হলেন বর্তমানে আমার চাচা শুশুর। উনি খুব ভালো মানুষ । কথা দেওয়া নেওয়ার মধ্যে দিয়ে বিয়ে ঠিক হয়। কিন্তু আমি জানতাম না।আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়নি কিছু, একদিন ঘরে অনেক আয়োজন! কি হচ্ছে? আমার ছোট ভাই এসে বলে আপু তোমার বিয়ের কথা হবে। আমি বিশ্বাস করতে পারিনি কারণ আমি কিচ্ছু আমি জানি না। কিছু মানুষ আসলো।  খানা পিনার আয়োজন হল।উনাদের  পক্ষ থেকে একটা চেইন দিল। উনাদের সামনে আমি  যায়নি। পরে যিনি চাচা শশুুর উনি অনেক ফ্রি মাইন্ডের মানুষ। উনি আমাকে বলে তুমি আমার মেয়ে আমার কাছে থাকবা। টেনশনের কোন কারন নাই। 

আমি কিছু বলি নাই। তখনও আমার সাহেব আমাকে দেখে নাই। বিয়ের দিন ঠিক করল ১০ই জুন ১৯৯১ সাল আমার বিয়ে হয়ে যায়। বেশি দুরে না একেই গ্রামের মধ্যে। বিয়ের পরে  পরীক্ষা দিছি শশুর বাড়ির থেকে। আলহামদুলিল্লাহ পাশ ও করেছি।

✈️স্বামী  ছিলেন প্রবাসী, বর্তমানে উনার ৪৩ বৎসর ওমানে অতিবাহিত হচ্ছে। পরিবারের বড়  ছেলে হওয়ায়  দায়িত্বটা বেশি উনার উপর ছিল।  এরা ৭বোন ২ভাই।

🏠  আমাদের সংসার জীবন অনেক  সুখী আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের একটা মাত্র ছেলে সন্তান। বয়স ২১ বছর।  আমরা বর্তমানে ওমানে অবস্থানরত। আমি  ওমান এসেছি ১৭ বৎসর অতিবাহিত হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ প্রিয় স্যারের শিক্ষা গ্রহণ করে স্বামীকে নিয়ে উদ্যোক্তা হবার সপ্ন বাস্তবায়নের  লক্ষে ২০২২ সালের মার্চ মাসে ওমান থেকে দেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। পরিশেষে আমাদের প্রিয় মেন্টর জনাব ইকবাল বাহার জাহিদ স্যারকে স্যালুট জানাচ্ছি যিনি আমাদের এত সুন্দর একটা প্লাটফর্ম উপহার দিয়েছেন। সেই প্রিয় ভাই বোনদের প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে আজকের মতো এখানেই ইতি টানছি। ধন্যবাদ সবাইকে।

আল্লাহ হাফেজ। 


📌"স্ট্যাটাস অব দ্যা ডে"- ৬৬৩

Date:- ০৩/১১/২০২১ইং

🌷আনজুমান আরা বেগম

🌷ব্যাচ ঃ১৪ 

🌷রেজিঃ ৬৬২২১

🌷জেলা ঃ চট্টগ্রাম 

🌷বর্তমান ঃ ওমান

ফরিদপুর জেলা টিম কর্তৃক আয়োজিত বৃক্ষরোপন কর্মসূচি -২০২৪

ইনশাআল্লাহ ফরিদপুর জেলার বাকি ৮টি উপজেলায় এই কর্মসূচি চলমান থাকবে। অনেক বেশি ধন্যবাদ Iqbal Bahar Zahid স্যার কে ॥

পর্দাশীল ঘরোয়া নারী- সফল উদ্যোক্তা

আমি রান্নাটা ভালো পারি, রান্নাটা নিয়েই পেজ খুলি অনলাইনে কাজ করি। প্রথম অর্ডার আসছিল পিৎজা ডেলিভারির। আলহামদুলিল্লাহ তারপর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ।